আ.কা মির্জার টার্গেটে কোম্পানীগঞ্জের ৬ সাংবাদিক 

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার টার্গেটে পরিণত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জে কর্মরত ৬ সাংবাদিক। কাদের মির্জার অপরাজনীতির পক্ষে সাফাই না গাওয়ায় এবং একতরফাভাবে তার অনিয়ম দূর্ণীতির পক্ষে না থেকে সত্য সংবাদ প্রচার করায় তাদেরকে টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। একই সাথে কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জা বিরোধী আন্দোলনে কাদের মির্জার পক্ষে থেকে তার অন্যায় আচরণকে সমর্থন না করাও একটি কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছেন ওই ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

 

কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারী কর্তৃক মামলার আসামী হওয়া ও্ই ৬ সাংবাদিক হলেন কোম্পানীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক চলমান সময়ের চীফ রিপোর্টার প্রশান্ত সুভাষ চন্দ, কোম্পানীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নিউজ টু ডে পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন মজনু, দৈনিক ভোরের কাগজের কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি জায়দল হক কচি, রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি আমির হোসেন ও প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জের সভাপতি ও আনন্দ টিভির কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি হাসান ইমাম রাসেল এবং দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি নাজমুল হোসেন জনি। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানি মূলক একাধিক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে পৌর নির্বাচনের আগে ও পরে কাদের মির্জা দলীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলন ও ফেইসবুক লাইভে এসে বিষোধাগার করতে থাকেন। তার এমন বক্তব্য হুবহু ওই সাংবাদিকরা তাদের স্ব-স্ব পত্রিকায় প্রচার করায় তিনি তাদের উপর রুষ্ট হন। সেই রুষ্টতা থেকে তিনি তাদের মুখ বন্ধ করতে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার অনুসারীদের দিয়ে মামলা করে যাচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার বাদী আরিফুর রহমান, নূর নবী স্বপন ও মো: হাসেমের সাথে কথা বললে তারা সাংবাদিকদের আসামী করার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তারা শুধু নির্দেশ পালন করেছে বলে জানায়।

 

মামলার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর জাহেদুল হক রণি জানান, বাদীর এজাহারে যাদের নাম আছে তারা সকলেই মামলার আসামী হয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় ৬জন সাংবাদিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বাদীর বক্তব্যও শুনেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।