৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের পাওয়া না পাওয়ার কিছু কথা..বাদল

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির এসিড টেস্ট হয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত।

আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে প্রথম এসিড টেস্টে উত্তীর্ণ সৈনিক।
আমার পিতা ১৯৭৫ সালের ১২ই জুন বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক জাসদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরীক্ষীতসৈনিক ছিলেন।আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ আলম চৌধুরী মৃত্যুকালে তিনি কোম্পানিগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৭৫ সালের জুনের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আমরা ছয় ভাই বোন এক অনিশ্চিত জীবনে বন্ধী হয়ে যাই, আমাদের ভাই বোনদের জীবন গড়াতে থাকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
আমার বাবা যখন গত হন তখন আমার বয়স আড়াই বছর হবে, বাবা হীন পৃথিবী কত কঠিন, যে অকালে বাবা হারিয়েছেন সেই বুঝবে শুধু।
বাবার আদর ভালবাসা, মায়া মততা, কি জিনিস বুঝে উঠার আগেই বাবা হারিয়েছি।
সমাজে টিকে থাকার লড়াইয়ে শামিল হতে হয়েছে ছায়াহীন ভাবে।
আমাদের গর্ভধারিণীই ছিল আমাদের শেষ আশ্রয়, মা আমাদের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা থেকে আগলে বাবার রেখে যাওয়া আদর্শে চালিত করেন।
সেই বাল্যকাল থেকে।গোপালগঞ্জের টঙ্গী পাড়ায় জন্ম নেওয়া বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত নেতা, সেই টঙ্গীপাড়ায় শায়িত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন, স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কর্মী আমি।
১৯৮৩/৮৪ সালের দিকে মুক্তিযুদ্ধা পিতার রেখে যাওয়া আদর্শ বুকে নিয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করি।
১৯৮৬ সালে আমি চাপরাশিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই।
১৯৮৮ সালে আমি সরকারি মুজিব কলেজে ভর্তি হই।
সেই সময় আমার রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখে এবং স্বৈরাচার বিরোধী অবস্থানের কারণে ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টির একটি পক্ষ অস্ত্র সহ আমার উপর হামলা চালায় এবং শারীরিক ভাবে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
১৯৯২ সালে চরফকিরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।
এই সময় গুলোতে কোম্পানীগঞ্জে যারা আওয়ামীলীগ করতো তারা জানে এই অঞ্চলে আওয়ামীলীগ করা কত কঠিন ছিল।
এর মধ্যে ১৯৮৬ সালের উপনির্বাচনে যখন আমাদের সকলের প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের কে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় তখন ওনার সাথে থেকেই সেই নির্বাচনে কাদের ভাইয়ের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে কাজ করেছি।
তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অত ভাল ছিল না, কখনো সাইকেলে কখনো বা পায়ে হেটে ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করেছি।
সেই নির্বাচন ছিল দরজা বন্ধের নির্বাচন। জাতীয় পার্টির নেত্রীবৃন্দরা আমাদের আওয়ামীলীগের ভোটারদের কেন্দ্রের আশেপাশে ও যেতে দেয় নাই। হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ জয়লাভ করে।
এর পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। ৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারে পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা সেনাশাষিত সরকারের অধ্যায়। ১৯৯১ সালে আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলো আবারো প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের কে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী করা হয়।
৯১ সালের নির্বাচনে ও কাদের ভাইয়ের পক্ষে সক্রিয় ভাবে নির্বাচনে তার কর্মী হিসাবে কাজ করেছি। সেই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৮৮ আসন পেয়ে আওয়ামীলীগ প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে যায়। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বারিষ্টার মওদুদ আহমেদ ৩১৪৪৮ ভোট পেয়ে
নির্বাচিত হন।
প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের ২৭৯১৭ ভোট পান।
সেবারের নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান জেএসডি প্রার্থী ছিলেন তিনি ২৩১ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
১৯৯৪ সালে আমি চরফকিরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই।
৯৬ সালে বিএনপির ১৫ই ফেব্রুয়ারীর নীল নকশার এক দলীয় নির্বাচন করে। সেই নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করি। সারা দেশে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর অসহযোগ আন্দোলনে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে রাজপথে সক্রিয় কর্মী হিসাবে সামনের সারিতেই ছিলাম।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সে কি ভয়ানক আন্দোলন!
আন্দোলনের দাবানলে পুড়ে খালেদার সরকার বিদায় নেয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। সম্ভবত জুন মাসের ১২ তারিখে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আমাদের প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের ৪০২৮০ পেয়ে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৪৬ আসন পেয়ে, একক ভাবে সরকার গঠন করে।
শুরু হয় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির নব উদ্যমে পথ চলা।
১৯৯৭ সালে আমি সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হই।
নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নেতা ওবায়দুল কাদেরের দিকনির্দেশনায় মুজিব কলেজ ছাত্রলীগ কে কোম্পানিগঞ্জের শক্তিশালী ইউনিটে পরিণত করি, যার সুফল কোম্পানিগঞ্জ আওয়ামীলীগ ২০০১ সালের পরে রাজপথে ভোগ করেছে।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির নেত্রীত্বে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে, শুরু হয় বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিষীকাময় দিনলিপি, সমগ্র বাংলাদেশের ন্যায় কোম্পানিগঞ্জ আওয়ামীলীগের উপর ও নেমে আসে হামলা,মামলা অত্যাচারের রাজনীতি। আওয়ামীলীগের অন্য নেত্রীবৃন্দের মত আমার উপরেও নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়গ।
দল বিরোধী দলের যাওয়ার পর সহ্য করেছি অসহনীয় নির্যাতন।
এর পর শুরু হলো মামলা হামলার রাজনীত। অনেকেই এলাকা ছাড়া হতে শুরু করে।
নির্যাতনের নতুন মাত্রা যোগ হলো সেনাবাহিনী কর্তৃক অপারেশন ক্লিন হার্ট নামের অপারেশনের মধ্য দিয়ে। আমার বাড়িতে সেনাবাহিনী তিনবার অভিযান চালায়, ভাগ্য ভাল আমি বাড়িতে থাকার পরও আমাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
আওয়ামীলীগের অন্য নেতাকর্মীদের লিস্ট করেও বাড়ি বাড়ি হানা দেওয়া হলো, এই দফায় কোম্পানিগঞ্জের আওয়ামীলীগ মোটামুটি এলাকা ছাড়া হয়ে গেল। গুটিকয়েক যারা ছিল নির্যাতনের স্টিম রোলার সহ্য করেই টিকে ছিল।
তাদের মাঝে আমিও একজন ছিলাম।
এর পর শুরু মামলার রাজনীত।
রামপুরের আলমগীর হত্যা মামলায় আমাকে সহ ৯৭ জন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী কে আসামী করা হয়।
এভাবে অসংখ্যবার মামলার আসামি হয়েছি ২০০৬ সাল পর্যন্ত।
দেশের অন্যান্য জেলার মামলায় পর্যন্ত জড়ানো হয়েছে।
২০০৩ সাল, দলের তখন কঠিন দূর দিন, আমাকে কোম্পানীগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি করা হয়।
২০০৩ সালটা এমন ছিল নিজে বাঁচলে বাপের নাম ঠিক সেই সময়ে আমার নেতা ওবায়দুল কাদের আমাকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করেন। আমার জীবনটা সবসময় চ্যালেঞ্জিং ছিল, হয়তো সেই জন্যই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে কখনো পিছপা হইনি।
আমি আমার নেতার দিকনির্দেশনায় এবং আমি যেহেতু এর আগে মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম যুবলীগের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য কিছুটা সহজ ছিল। প্রত্যেকটা ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটি গুলো ছিল খুবই সংগ্রামী এবং আদর্শিক। ২০০৪ সালে চাপরাশির হাটে আমাকে হত্যার উদেশ্যে হামলা চালায় জামাত শিবির। সেই হামলায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত এমন কোন স্থান নেই যে তারা আঘাত করেনি। আল্লাহর রহমতে কোনমতে প্রাণে বেঁচে যাই কিন্তু তার ক্ষত চিহ্ন আজো বয়ে বেড়াচ্ছি।
সেই ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দিনের পতনের আগে পর্যন্ত, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ এক মুহূর্তের জন্যও রাজপথ থেকে সরে দাড়াইনি।
২০০৪ সালের পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মিছিল মিটিং সভা সমাবেশে, কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেত্রীত্বে পুরা কোম্পানীগঞ্জে আমরা জয় বাংলা স্লোগানে প্রকম্পিত করেছিলাম। এর পর ২০০৮সালের নর্বাচনে কি ভাবে নির্বাচন করেছি সেটা প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেব অবগত আছ
২০১১ সালের নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচনে ৫ নং চর ফকিরা ইউনিয়নে ৯৫০০+ ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।এবং দুইবারই জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।
নির্বাচিত হয়েই জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি।
২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করি। নির্বাচিত হওয়ার পর জেলার মধ্যে স্বাস্হ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে শ্রষ্ঠত্ব্য অর্জন করি ।২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য আমি চট্রগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হই। ২০১৪ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় উন্নয়নের নতুন যুদ্ধ। যেই যুদ্ধে উপজেলার জনগণ কে সাথে নিয়েই মন্ত্রী মহোদয়ের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দৈনিক ১৬/১৮ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে গিয়েছি।
কাজ করতে গিয়ে আদর্শিক অনেকের সাথেই মতের অমিল হয়েছে।সবাইকেতো আর সন্তুষ্ট করা যায় না,এছাড়া সাধারন মানুষ আমাকে বেশী সময় পাচ্ছে এটাও অনেকে মেনে নিতে পারে নাই।
এতেই ঘটেছে বিপত্তি। সুবিধাবাদীরা আড়ালে আবড়ালেআমার বিরুদ্ধে মন্ত্রী মহদয়ের পরিবারের সদস্যদের কাছে মিথ্যা প্রচারনা শুরু করলো,এবং তাদের কান ভারী করতে সফল হলো।প্রতিনিয়ত বলতে লাগলো আমি ওমুক তোমুককে নিয়ে খারাপ মন্ত্যব্য করেছি
যেটা ছিল আমার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অপপ্রচার। এই অপপ্রচার কে পুজি করেই এখনো অনেকের অন্ন্যের যোগান হয়!
তারা আমার নেতার কান ভারী করতে লাগলো।
তারা অনাবরত আমার বিরুদ্ধচারীতে রুপান্তরিত হলো।
তারা আমার নেতার কাছের বা পরিবারের লোকজন কে আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করালো।
এরি মাঝে সুবিধাবাদীদের ষড়যন্ত্রের আরেকটা খোরাক তৈরি করে দিল ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
এই নির্বাচনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে।
তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন।
প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ থেকে একাধিক ব্যক্তি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে উঠেন।
তখন কোন ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামীলীগ কোন সমন্বয়ে পৌছাতে পারেনি।
তখন সকলের সম্মতিক্রমেই ডেলিগেট ভোটের প্রস্তাব আসে।
এটা ছিল কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামীলীগের সমন্বিত উদ্যোগ।
ডেলিগেট ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছিল তাদের জিতিয়ে আনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমার নেতা ওবায়দুল কাদের। একটা ইউনিয়নে আমার বড় ভাই দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিল।
আমি আমার ভাইয়ের পক্ষে না গিয়ে আমার দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করি।
এখন যেমন মেয়র মহোদয় কোম্পানীগঞ্জের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন ও করতেন।
কিন্তু কিছু সুবিদাবাদি লোক প্রতিনিয়ত আমার এত বেশি অপপ্রচার করেছে ওনার কাছে গিয়ে তিনি একটু একটু ভুল বুঝতে বুঝতে সেটা আজ পাহাড় সম ভুলে পরিণত হয়েছে। সুবিদাবাদীরা ওনাকে এমন ভাবে ঘিরে ধরেছে এই ভুল ভাঙ্গার আর সুযোগ ও পেলাম না।
২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার ভোটের জন্য কোম্পানীগঞ্জের প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে, দুয়ারে দুয়ারে আমি গিয়েছি, আমার নেতার ওবায়দুল কাদেরের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।
২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে ষড়যন্ত্রকারিরা তাদের ষড়যন্ত্রের সফল রুপদান করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করে।আমি আমার নেতা ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা মাথা পেতে নিয়েই আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করি,এ জন্য যেন দলের মধ্যে ভিবাজন সৃষ্টি না হয়।এতেও ষড়যন্ত্র কারীদের ষড়যন্ত্র থামেনি বরং আমাকে দল থেকে বিতাড়িত করতে পারলে মনে হয় তাদের চলার পথ সুগম হবে।
এটা তারা আমার নেতাকে বুঝিয়েছে, আমার নেতা ও ভুল বুঝেছেন!
৩৫ বছর রাজনীতি করেছি তার মধ্যে পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। প্রায় তিন বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম, এর মাঝেও বাপ দাদার রেখে যাওয়া সমপত্তিতে হাত দিতে হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ গস্থ্য আছি।
একটা উপজেলায় পাঁচ বছরে কত বরাদ্দ আসে আমার নেতা ভাল করেই জানেন, আমাকে ব্লেইম দেওয়ার জন্য অনেকেই অনেক রঙ মাখা গল্প সাজাচ্ছেন তাতে আমার তেমন কিছু আসে যাই না।
আমার বিরুদ্ধে যেই কোন ব্যবস্থা আপনারা নিতেই পারেন, তাতে আমার কোন দুঃখ নাই, এই জন্য আমি মোটেও ব্যাথিত বা বিচলিত নয়।
আমাকে তো গত একবছর এমনিতেই কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামীলীগ থেকে অঘোষিত ভাবে অবাঞ্চিত করে রাখা হয়েছে নতুন করে অবাঞ্চিত বা অব্যাহতি দিলেও তেমন দুঃখ নাই।
শুধু একটা দুঃখ রয়ে যাবে।
আপনারা ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকে আর আমার নেতাকে দুই মেরুতে দাড় করিয়েছেন।
এই দঃখটা সারা জীবন রয়ে যাবে।
যেই জাসদ আমার বাবাকে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে, হয়তো বা সেই জাসদ মার্কা লোকদের হাতে আমাকে ও সেই পরিনতি ভোগ করতে হবে।
তাতে আমার কোন ভয় নেই।
আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে সবসময় জনগণের সাথে ছিলাম আশা করি সবসময় থাকবো ইনশাআল্লাহ।
মানবতার মা বিশ্ব নেতা জন নেত্রী শেখহাসিনাও
প্রিয়নেতা ওবায়দুল কাদেরের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
নিশ্চয়ই একদিন এই ভুল ভাঙ্গবে হয়তো।

ভাল থাকুক প্রাণের সংগঠন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

মিজানুর রহমান বাদল-সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা  পরিষদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক  নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগ।

আর্কাইভ