কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রতারণা করে নিয়ে যাচ্ছে খুচরা পেট্রোল বিক্রেতারা, প্রতিনিয়ত প্রতারিত হলেও কোন প্রতিকার নেই

 

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ :
==========
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রতারণা করে নিয়ে যাচ্ছে খুচরা পেট্রোল বিক্রেতারা। প্রতিনিয়ত প্রতারিত হলেও কোন প্রতিকার নেই, প্রতিরোধও নেই। নীরবেই সহ্য করে যাচ্ছি। বিশেষ করে আমরা যারা হোন্ডা চালাই তারাই মূলত প্রতিনিয়ত এ প্রতারণার শিকার হচ্ছি। কিন্তু বিষয়টি ক্ষুদ্র মনে করে এ নিয়ে আমরা কখনো উচ্চবাচ্য করিনা। আমাদের নীরবতার সুযোগটিই নিচ্ছে খুচরা পেট্রোল বিক্রেতারা। অনেক সময় খুচরা পেট্রোল বিক্রেতাদেরকে পরিমাপের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তাদের কাছ থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়না। উপরন্তু তারা ক্রেতাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, পেট্রোল/অকটেনের মাপ এতটুকুই।

বিষয়টি আমার কাছে পীড়াদায়ক হওয়ায় আমি বাজারে বিক্রি হওয়া ১ লিটার ও ২লিটার ওজনের পানির বোতলের ছবি তুলি পাশাপাশি একটি খুচরা পেট্রোল বিক্রেতার দোকান থেকে ১ লিটার ও ২ লিটার ওজনের পেট্রোল ভর্তি দুইটি বোতলের ছবি তুলি।

পরবর্তীতে চারটি বোতলের ছবির মধ্যে তুলনা করে দেখি উভয় ক্ষেত্রে বোতল একই কিন্তু পানি ও পেট্রোলের পরিমাপে ভিন্নতা আছে। ২লিটার পানির বোতল পরিপূর্ণ হলেও পেট্রোলের ক্ষেত্রে পরিমাপ অনেক কম। একই অবস্থা ১ লিটার ওজনের বোতলের ক্ষেত্রেও। প্রতিক্ষেত্রে প্রায় ১শ মিলি কম দেয়া হচ্ছে। ১লিটার পেট্রোলের বর্তমান বাজার মূল্য ৯০ টাকা। সে হিসেব ১শ মিলি পেট্রোলের মূল্য ৯টাকা।

অনেকের সাথে আলাপ করে এবং নিজস্ব ধারনা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আনুমানিক ১৫ হাজার হোন্ডা নিয়মিত চলে। ১৫ হাজার হোন্ডা মালিক প্রত্যেকে দৈনিক কমপক্ষে ১লিটার(গড়প্রতি) পেট্রোল খরচ করলে তার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার লিটার। এখন প্রতিলিটারে যদি ১শ মিলি করে কম দেয়া হয় তাহলে প্রতিদিন ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৫শ লিটার পেট্রোল থেকে। মূল্যের হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রতিদিন ১লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। যা ১ মাসের হিসেবে ৪০লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ১ বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এতবড় একটি প্রতারণার শিকার হয়েও আমরা নির্বিকার।

ভোক্তা অধিকার আইনে যদিও স্পষ্ট বলা আছে, কোন ব্যক্তি কোন পণ্য সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় ভোক্তাকে প্রতিশ্রুত পরিমাপ অপেক্ষা কম পরিমাপে উক্ত পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। এখন প্রশ্ন হল বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?

আমি যেহেতু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সেহেতু আমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে আশা করবো এ উপজেলার হাজার হাজার হোন্ডা চালককে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।