প্রশংসাবারিতে সিক্ত হচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আরিফ

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ :
============
বাংলাদেশ পুলিশের সততায়, বীরত্বপূর্ণ কাজে, দক্ষতায় ও কর্তব্যনিষ্ঠায় অবদান অনেক। সত্যিকারের দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান পুলিশ আইন মেনে যেমন পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি তাদের অনেকের সততা, নৈতিকতা ও মানবিকতার গল্প মনোমুগ্ধকর।

আমরা নাটক সিনেমাতে দেখে থাকি, কোন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে বা কেউ বিপদে পড়লে সেখনে একজন সৎ, নির্ভিক, দক্ষ, সাহসী ও মানবিক পুলিশ অফিসার পাঠানো হয়, যিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপোষহীন থেকে ওই এলাকার গণমানুষের কাছে দেবদূতের মতো প্রতিভাত হন।

সিনেমার মতো হুবহু না হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ পুলিশে এ ধরনের কর্মকর্তার দেখা যায় মাঝে মধ্যে। যে কারনে তারা প্রশংসাও পেয়ে থাকেন। তারা সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতা করার সুযোগ খোঁজেন।

এমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাহস ও মানবিকতা দেখিয়ে ৩ শিশুর জীবন রক্ষা করে এখন এলাকাবাসীর প্রশংসাবারিতে সিক্ত হচ্ছেন। তিনি আর কেউ নন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: আরিফুর রহমান। ১লা নভেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর সাহসিকাতা ও মানবিকতা পূর্ণ একটি কাজ সকলের দৃষ্টি কাঁড়তে সক্ষম হয়েছে। ৩ অবুঝ শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মালেক বাজারের চা দাকানদার কবির ও মুদি দোকানদার জাফরের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, শুক্রবার আনুমানিক আড়াইটার সময় আমাদের দোকানে আগুন লেগে জ্বলতে থাকে। এসময় আমরা কেউ দোকানে ছিলাম না। ঘটনার সময় পুলিশের রাত্রিকালীন পাহারা তদারকি করতে আমাদের দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান। আগুন দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে নীরব নিস্তব্ধ থাকা এলাকাবাসীকে হ্যান্ডমাইক দিয়ে ডেকে জেগে তোলার চেষ্টা করেন। কয়েকজন গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে এলেও জ্বলতে থাকা দোকান দুটিতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় কেউ সাহস করে কাছে ভিড়ছেনা। ইতিমধ্যে আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলতে থাকা দোকান দুটি থেকে পাশ্ববর্তী আরেকটি রিক্সা গ্যারেজের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। যে ঘরের মধ্যে নূর আলম(৪), শুভ(৮) ও ইসমাইল(১৪) নামে তিনটি অবুঝ শিশু অঘোর ঘুমে ঘুমাচ্ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি স্ব-উদ্যোগে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন এসে পানি ছিটিয়ে দীর্ঘক্ষনের চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তাঁর এ সাহস ও মানবিকতা দেখে এলাকাবাসী মুগ্ধ হয়ে যান। সকলেই তার প্রশংসা করতে থাকেন।

এ বিষয়ে ওসি আরিফুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, পুলিশ হিসেবে নয়, আমি একজন মানুষ হিসেবে ঐ ৩ শিশুকে উদ্ধার করেছি। যদিও এ কাজে ঝুঁকি ছিল।

আর্কাইভ