কারা হচ্ছেন সভাপতি-সম্পাদক..

দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। আলোচনার বিষয়, কে হচ্ছেন নতুন কমিটির সভাপতি-সম্পাদক। এদিকে কমিটি ঘোষণা নিয়ে জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না বিএনপির। কমিটি চূড়ান্ত করার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন জটিলতা। বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত তৃণমূল নেতৃবৃন্দের শ্যেন দৃষ্টি পড়েছে এ নেতৃত্বের ওপর। যখনি কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হয় তখনি এর সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কেউ না কেউ বাগড়া বসান। নানা নাটকীয়তা ও চড়াই উৎরাইয়ের পর সর্বশেষ ২০১০সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ আব্দুল হাই সেলিমকে সভাপতি ও নূরুল আলম শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপির কিমিটি ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হলেও নানা জটিলতায় কমিটি ঘোষনা করা হয়নি। ২০১০ সালে গঠিত কমিটিই এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার কথা আলোচনায় আসলে শুরু হয় পদ প্রত্যাশিদের তোড়জোড়। সাথে যুক্ত হয় তৃণমুল নেতাদের পছন্দ অপছন্দ। তৃণমুল নেতাদের মতে দীর্ঘদিন তাদের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে স্থানীয় বিএনপির অভিভাবক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ তাঁর পছন্দ মত লোকদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলকে আন্দোলন সংগ্রাম ও ভোটের রাজনীতিতে অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছিল। এবার সেই ধারাবহিকতার অবসান চান তাঁরা। তাদের পছন্দের প্রতিফলন চান তারা। তৃণমূল নেতাদের দাবী এবার অন্তত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কমিটি গঠন করা হোক। যেহেতু দল এখন অস্তিত্ব রক্ষার্থে লড়াই করে যাচ্ছে সেহেতু দলকে চাঙ্গা করতে পারে এমন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হোক। যাতে করে পূণরুদ্ধার করা যায় বিএনপির পুরনো ঐতিহ্য ও সুনাম।

অনেকের সাথে আলাপ করে এ দুটি পদে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, সভাপতি পদে পৌর বিএনপির বর্তমান সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আহছান উল্যাহ মানিক ও বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পলাশ। সম্পাদক পদে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন, উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম শিকদার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মতিন লিটন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন।

সম্মেলন বিষয়ে ৩নং চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর নবী বাবুলের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, আমাদের নেতা ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ সম্প্রতি আমাদেরকে ডেকে নিয়ে মতামত চেয়েছেন। আমরা বলেছি সম্ভব হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি করার জন্য। তবে তিনি যদি তাঁর মতো করে কমিটি গঠন করে দেন তাহলেও আমাদের কোন আপত্তি নেই।

একই কথা বলেছেন, ৮নং চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের চাওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ তাঁর নিজের মতো করে কমিটি গঠন করলে কোন আপত্তি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু দলের অভিভাবক ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ, সেহেতু উনি যেটি ভালো মনে করবেন সেটিই করবেন। এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

এদিকে সম্মেলন বিষয়ে নূরুল আলম শিকদার, আব্দুল মতিন লিটন ও মাহমুদুর রহমান রিপনের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উনি যা ভালো মনে করবেন তাই করবেন। এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।