নোয়াখালীতে অবাধে বালু উত্তোলন…

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীতে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও থামছেনা এর অরাজকতা। এ জেলার প্রায় উপজেলায় প্রশাসনিক বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে একশ্রেণীর লোভাতুর ব্যক্তিরা বালু উঠিয়ে বাণিজ্যে মেতেছেন দেদারছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে জেলার কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের লেমুুয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, লেমুনা মক্তবের ভিটি ও মাঠ ভরাটের নামে বালু ওঠাচ্ছেন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য হুমাযুন কবির। এ সময় আশে-পাশের বাসিন্দারা জানান, মক্তবের নামে বালু ওঠানোর কথা বলায় তারা এ নিয়ে কোন ধরনের উচ্চ্যবাচ্চ্য করছেননা। তবে তারা বালু ওঠানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ভালভাবে না জানলেও সরকারীভাবে বাণিজ্যিক কাজে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ বলে শুনছেন।

অবশ্য সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে বালু ওঠানোর মেশিন বন্ধ রাখেন হুমায়ুন কবির। এ সময় ঘটনাস্থলে তিনি বালু ওঠানোর পাইপ ও মেশিন সামগ্রী রেখে অন্যত্র চলে গেছেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগোযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানান, যে জমি থেকে বালু ওঠানো হচ্ছে এ জমির মালিকানা নিয়ে হুমায়ুন কবির ও তার ভাই দুলালের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পক্ষান্তরে, হুমায়ুন কবির এ জমির বালু মক্তবের নামে দান করে এলাকাবাসীকে নিজের পক্ষে রাখতে চান বলেও মন্তব্য করেন দুলাল। এদিকে, অবাধে বালু উত্তোলন বিষয়ে এলাকার নাগরিকদের কিছুটা নিরবতা প্রসঙ্গে দুলাল জানান, হুমায়ুন মক্তবে বালু দেয়াটাকে নিজের স্বার্থে ধর্ম অনুভুতি হিসেবে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী কাছে।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম দুলাল কবির হাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দরখাস্ত করলেও এর কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন। দুলাল জানান, তিনি উপজেলা প্রশাসনের প্রয়োাজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঢিলেমি দেখে বুধবার নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেছেন, তিনি অভিযোগ পেয়ে ওই বালু ওঠানো বন্ধ করার ব্যবস্থা নিয়েছেন। এরপরেও যদি তারা বালু ওঠায় তাঁকে
ঠিকসময়ে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।