নোয়াখালীতে মন্দিরে হামলা, প্রতীমা ভাংচুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা, গ্রেফতার-১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বসুরহাট পৌরসভায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে শতশত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় উপজেলার বসুরহাট পৌরসভাস্থ শ্রীশ্রী জগন্নাত মন্দিরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা মন্দিরে উপস্থিত পূজারীদের সহায়তায় হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল থেকেই মন্দিরে “বিশ্বকর্মা” পূজা চলছিল। পূজাকে কেন্দ্র করে শতশত পূজারী মন্দিরে ভিড় করে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আগন্তুক পূজারীদের সাথে বিল্লাহ হোসেন(২৪) নামে এক যুবক মন্দিরের দোতলায় প্রবেশ করে মন্দিরের আসনে স্থাপিত “সুভদ্রা” দেবীর বিগ্রহ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ভাংচুর করে। এসময় বিষয়টি নজরে আসলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা মন্দিরে আগন্তুক পূজারী ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক বিল্লাল হোসেন উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মান হাজি বাড়ির আইঊব খানের ছেলে।
্এ ঘটনার পরপরই মন্দিরে উপস্থিত শতশত পূজারী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করে দোষীদের সর্বোচ্ছ শাস্তি দাবী করতে থাকে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফয়সাল আহমেদ, সহকারী কমিশনার(ভ‚মি) মো: ইয়াছিন ও কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনের পক্ষ  থেকে ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি প্রদানের আশ্বাসের ভিত্তিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা প্রত্যাহারসহ পরবর্তী কর্মসূচী স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে “কোম্পানীগঞ্জ শীল সমবায় সমিতির” সভাপতি নির্মল মজুমদার জানান, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান নিজ উদ্যোগে সকাল থেকে মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করায় বড় কোন দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ উপস্থিথ না থাকলে যেকোন দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। এ কারনে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
এ বিষয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ও শ্রীশ্রী জগন্নাত মন্দির কমপ্লেক্সের সম্পাদক অরবিন্দ ভৌমিক জানান, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই। পাশাপাশি তিনি আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে কোম্পানীগঞ্জের সকল পূজা মন্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবী জানান।
ঘটনার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার  অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান জানান, বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। যার কারনে ঘটনার সাথে সাথেই হামলাকারীকে গ্রেফতার করা সক্ষম হয়েছে। এখন আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফয়সাল আহমেদ জানান, অনাকাঙ্খিত এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তা সকলের সহযোগীতা নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। পাশাপাশি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এ বিষয়ে কোন ছাড় নেই।

আর্কাইভ