কোম্পানীগঞ্জে নির্বাচনের নামে ত্রাসের রাজত্ব চলছে–ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ :
এটা কোন নির্বাচন নয়, এখানে নির্বাচনের নামে ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এটাকে নির্বাচন না বলে সরকারী দলের দূর্বৃত্তায়ন বলা চলে। এখানে সামন্যতম নির্বাচনী পরিবেশ নাই। দেশবাসী যদি ভোট দিতে না পারে তাহলে এ সরকারের জন্য কলঙ্ক  হবে এবং গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটবে বাংলাদেশে। এ অবস্থা যদি সারা বাংলাদেশে হয় তাহলে নির্বাচনের উপর মানুষের বিশ্বাস একেবারেই চলে যাবে। আর কোন আস্থা কোনদিন থাকবে না। তবে আমি এখনো আশাবাদী ভোটাররা যদি নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে তাহলে আমার ন্যায় সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে। কথা গুলো বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী-৫ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ। তিনি আজ বিকাল ৪টায় উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মানিকপুরে তাঁর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা গুলো বলেন।
তিনি(মওদুদ) বলেন, দেশের মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেখুক দলীয় সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয়। এটা একটা সুযোগ ছিল আ’লীগের প্রমান করার জন্য যে, দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠ নির্বাচন করা যায়। কিন্তু তারা ক্ষমতার লোভে পেশী শক্তি দিয়ে, পুলিশের শক্তি দিয়ে ও বল প্রয়োগ করে নির্বাচন করতে চাচ্ছে। আমি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সেনাবাহিনীর জেলার দায়িত্বে থাকা লে. কর্ণেল মুনির, কোম্পানীগঞ্জে মেজর মোস্তফা ও থানার ওসিসহ সবাইকে জানিয়েছি। কিন্ত কোন লাভ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতেই আমাকে নির্বাচন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জানি আরো অনেক বিপদ আমাদের সামনে আছে। তারপরও আমি শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত নির্বাচন চালিয়ে যাব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি(মওদুদ) প্রশাসন ও সরকার দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩১টি মামলা দেয়া হয়েছে। এসকল মামলায় ৯শ ৬৫ জনকে এজাহার ভ‚ক্ত আসামী করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ১হাজার ৬শ ৪৯ জনকে। গত ১০ তারিখের পর থেকে আজ অব্দি ৭শ ৬৬ জনকে আহত করা হয়েছে। আমার নির্বাচনী কাজে যারা মূল কাজ করার কথা তাদের মধ্যে ৭৮জন জেলে দেয়া হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন এটা কি নির্বাচনী পরিবেশ?
সেনা মোতায়েন বিষয়ে তিনি(মওদুদ) বলেন, যেদিন সেনাবাহিনী এলাকায় এসেছে সেদিনই আমার গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। মওদুদ বলেন, আমাকে যেখানে নিরাপত্তা দিতে পারে না সেখানে এই সেনাবাহিনী এনে লাভ কি?
মওদুদের অভিযোগ অস্বীকার উপজেলা আ’লীগের
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদের করা অভিযোগ অস্বীকার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের সকল ভিত্তিহীন, অসত্য ও কল্পনা প্রসূত। নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সাড়া না পেয়ে তিনি আজ অবান্তর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের উপর হামলার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এমন একটা ঘটনা তিনি(মওদুদ) প্রমান করুক, যে ঘটনার সাথে আ’লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত। বাস্তবতা হল, ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়ন ও সুশাসনের ফলে নোয়াখালী-৫ আসনের জনগণ মওদুদ আহমদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যে কারনে তিনি(মওদুদ) এখন অনেকটা দিশেহারা হয়ে আ’লীগের বিরুদ্ধে এবং আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন।