কোম্পানীগন্জের মানুষ কেনো ওবায়দুল কাদেরকে ভোট দিবে..?

ফখরুল ইসলাম রাহাত-সদস্য স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদঃ-

শিক্ষকের সন্তান ওবায়দুল কাদের ছোট বেলা থেকেই ছিলেন স্বপ্নবাজ দিগন্তপ্রসারী বালক। বাবার আদর্শিক জীবন যাপন, নির্মোহ ও সরল দৃষ্টিভঙ্গি ছোট্ট কাদেরকে প্রভাবিত করেছে দারুণভাবে। দুরন্ত ও দস্যি ছেলে কাদের রেকর্ড সংখ্যক মার্কস পেয়ে বসুরহাট এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।তারপর নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে বোর্ড স্টান্ড করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন শেষ করেন। লেখাপড়া শেষ করে তিনি পারতেন চাকরিতে প্রবেশ করে আরাম আয়েশে দিন কাটাতে কিন্তু তিনি তা করেননি ;তার চোখে ছিল সুদূরের চাওনি, মনে ছিল আশা, মানুষের জন্য, দেশের জন্য ভালোবাসা, তার দৃষ্টি তা ই দিগন্তে আটকায়নি, সীমা থেকে অসীমেই যেনো তার যাত্রা।

দুই. ওবায়দুল কাদের একজন সৈনিক;দেশমাতৃকার সফল সেনানী ; বীর মুক্তিযোদ্ধা।তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর কোম্পানীগঞ্জ শাখার কমান্ডার। সম্মুখ সমরে কোম্পানীগঞ্জে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পাকিস্তানী গোষ্ঠী পিছু হটে এবং রাজাকারেরা ধরাশায়ী হয়। প্রিয় মাতৃভূমির প্রশ্নে আপোস করেননি কখনোই।বাংলাদেশের তরে জীবনবাজী রেখে সেদিন অস্ত্র হাতে নিয়েছেন।আহত হয়েছেন বারবার কিন্তু সংশপ্তকের ন্যায় এগিয়ে গেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সহযোদ্ধাদের,পিছু হটেননি।

তিন. ওবায়দুল কাদের ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র ও ছাত্র নেতা । আজন্মই মননে ছাত্র ও ছাত্র নেতা।এখনো সুযোগ পেলে বই পড়া ও লেখায় মনোনিবেশ করেন। নোয়াখালী কলেজে পড়া অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি। ছোট্ট বেলা থেকেই অধিকার সচেতনতা তার মজ্জায় ,অনেকটা বাই বর্ন । ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাঙালির সকল স্বাধীকার আন্দোলনে তিনি অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেছেন।পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট জাতির জনকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ওবায়দুল কাদের কারারুদ্ধ হন কিন্তু কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন;দায়িত্ব পালন করেছেন পরপর দুইবার। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয় তারই হাত ধরে।তিনি আজীবনই যেন ছাত্র। জীবন পাঠশালার কঠোর পরিশ্রমী ছাত্র। ছাত্র রাজনীতিতে মেধার চর্চা, আদর্শের চর্চা তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

চার.ওবায়দুল কাদের জীবনধারায় সহজিয়া। জীবনকে তিনি সহজভাবে দেখেন,সরল রৈখিক জীবনাচারণই তার আরাধ্য। এ নিরহংকারী মানুষটি সারাজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছে, গ্রেনেড বিদ্ধ হয়েছে কিন্তু আদর্শ ও দেশ প্রেম থেকে বিচ্যুত হননি। শরীরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন প্রান্ত থেকে কেন্দ্র, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া।

পাঁচ. বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও সৌজন্যতাবোধের অন্যতম রোল মডেল ওবায়দুল কাদের। রাজনীতি হচ্ছে নীতির প্রতিযোগিতা,আদর্শের প্রতিযোগিতা,কৌশলের খেলা । তিনি মনে করেন রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না।তিনি রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র ;রাজনীতিতে তার প্রজ্ঞা, মেধা ও সততা ভবিষ্যত রাজনীতিকের পাথেয়।

ছয়. ওবায়দুল কাদের একজন সম্মোহনী বক্তা, লেখক ও মননশীল সাংবাদিক। দৈনিক বাংলার বাণীতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার লেখা উপন্যাস, স্মৃতি কথা উচ্চ মানের সাহিত্য গুণ সম্পন্ন।তার বক্তৃতা অনুকরণীয়, অনুসরণীয়।

সাত. কোম্পানীগঞ্জ একসময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল, হানাহানি ওখুনাখুনি ছিল নৈমিত্তিক বিষয় ।কিন্তু বর্তমানে ওবায়দুল কাদেরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জ বাংলাদেশের শান্তির জনপদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

আট. মাদক যুব সমাজের প্রধান সমস্যা। এ বিষয়ে তাঁর জিরো টলারেন্স। মাদকমুক্ত কোম্পানীগঞ্জ গড়তে ওবায়দুল কাদের বদ্ধপরিকর।তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনা দলীয় পরিচয়ে কেউ যদি মাদক বিক্রি বা সেবন করে ত়াকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

নয়. চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই কোম্পানীগঞ্জে নেই বললেই চলে। একসময় মানুষ ডাকাত দলের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারতো না। চুরি ছিনতাইতো নৈমিত্তিক বিষয় ছিল, যা বর্তমানে নেই।

দশ.নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জের অবস্থান ইতিবাচক অর্থে শীর্ষে।আইনের যথোপযুক্ত প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা ও মন্ত্রী মহোদয়ের প্রচেষ্টায় কোম্পানীগঞ্জ ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মুক্ত।

এগারো. একসময় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশ ফেরত সবাইকে এলাকার কতিপয় মাস্তানদের চাঁদা দিতে হতো।নতুন বাড়ি নির্মাণ, বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদিতেও চাঁদা দিতে হতো ;যা বর্তমানে অকল্পনীয়।

বারো. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইভটিজিং মুক্ত। সর্বত্রই পরিবর্তনের ছোঁয়া।নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ, দপ্তরি নিয়োগ ইত্যাদি লোকবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ওবায়দুল কাদেরের আন্তরিকতা ঈর্ষণীয়।

তের. কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল নদী ভাঙন। ওবায়দুল কাদেরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছোট ফেনী নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে।যা এক যুগান্তকারী অগ্রযাত্রা।এর ফলে পূর্বাঞ্জল ও দক্ষিণাঞ্জলের মানুষ রক্ষা পেয়েছে।

চৌদ্দ. কোম্পানীগঞ্জের সড়ক পথগুলো এখন আর জীর্ণ-শীর্ণ বা ভাঙা নেই। কিছু বাইপাস সড়ক হয়তো কাঁচা রয়েছে। অচিরেই কোম্পানীগঞ্জের সকল কাঁচা সড়ক পাকা হবে। ওবায়দুল কাদেরের প্রতিশ্রুতি “আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে একটা কাঁচা রাস্তাও থাকবে না।তিনি কোম্পানীগঞ্জের মানুষের চট্টগ্রামে সহজ যাতায়াতের জন্য জোরালগঞ্জ সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন।

পনেরো :”জীবিকার জন্য শিক্ষা নয়,জীবনের জন্য শিক্ষা ”
শিক্ষাক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদেরের অবদান অসামান্য। তিনি কোম্পানীগঞ্জের গণমানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সরকারী মুজিব কলেজে অনার্স চালু করেছেন।জৈতুন নাহার কাদের মহিলা কলেজে আইসিটি ভবন নির্মাণ করেছেন, তিনি ২৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন, মাদ্রাসায় 5টি ভবন ,প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ টি নতুন ভবন ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৫ টি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

ষোল:কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সবসময় ঘূর্ণিঝড় আত্মঙ্কে থাকতো। এখন আর সে দিন নাই। ওবায়দুল কাদের প্রান্তিক মানুষের দুর্যোগে আশ্রয়ের জন্য ১৯ টি নতুন সাইক্লোন শেল্টার এবং ১১০ টি ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ করেছেন।

সতেরো. বিদ্যুৎ সমস্যা একসময় জনজীবনকে অতিষ্ঠ করেছিল। বিদ্যুৎ যাওয়া নয়, যেনো মাঝে মাঝে আসতো। বিদ্যুতের এ সমস্যা এখন জাদুঘরে।ওবায়দুল কাদেরের দূরদর্শী চিন্তায় সাবস্টেশন নির্মিত হয়েছে।কোম্পানীগঞ্জের প্রত্যেকটি লোকালয় এখন আলোকিত হবে।বিদ্যুত সংযোগ ও মিটার নিয়ে তার স্পষ্ট কথা জনদুর্ভোগ ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

আঠারো. স্বাস্থ্য খাতে একধরণের অস্থিরতা ছিল, যা এখন নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট, নার্স সংকট এমনকি সীট সংকট নিরসনে ওবায়দুল কাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

ঊনিশ.কোম্পানীগঞ্জ থেকে সোনাপুর মাইজদি যেতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতো, রাস্তার যত্রতত্র বাঁক এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। বর্তমানে মাননীয় মন্ত্রী বাঁক সংস্করণ করে সড়ককে সোজা করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

বিশ. কোম্পানীগঞ্জের ছাত্রদের দীর্ঘ দিনের দাবি বসুরহাট টু নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সার্ভিস চালু করা। ইতোমধ্যে ওবায়দুল কাদের তা করে দিয়েছেন।

শুধু উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করলেও ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাাকিটা মানুষের বিবেক।

আর্কাইভ