জেলার পর এবার বিভাগেরও শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মিজানুর রহমান বাদল

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ :
=============

শিক্ষাবান্ধব মানুষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। পেশায় আদ্যোপান্ত একজন রাজনীতিবিদ হলেও ব্যক্তি জীবনে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‍ূমিকা রাখার জন্য চলতি বছর চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। গত ৫ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ইলিয়াছ আজ এ প্রতিবেদককে বলেন, মিজানুর রহমান বাদল বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একজন শিক্ষাবান্ধব মানুষ। তার কারণে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করা সম্ভব হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার মান বাড়াতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার জন্যই আজ উপজেলার শিক্ষার হার বেড়েছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমি চাই কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার মান আরো ভালো হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন আনতে হবে। আমি তার ক্ষুদ্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এ কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে কোনো কাজই কঠিন থাকে না।

জানা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসর কোম্পানীগঞ্জে পাসের হার প্রায় শতভাগের কোঠায় এনে দেওয়া। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা, স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করা, বিদ্যালয়ের পরিবেশের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্কুল ড্রেস প্রদানসহ নোয়াখালীর সূর্য সন্তান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে কোথাও কোথাও নতুন ভবন নির্মাণ, আবার কোথাওবা স্কুল ভবনকে সম্প্রসারিত করে শিক্ষার্থী ধরে রাখার মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষাকে নানা দিক থেকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

এ সকল বিষয়গুলো নজরে আসায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে প্রথমে জেলা ও পরে বিভাগের সেরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে বিশেষ এ পুরস্কার প্রদানের জন্য মনোনীত করেছেন তাঁকে।

একইসাথে পারিবরিক অস্বচ্ছলতার কারণে কোন অভিভাবক যাতে তার শিশু কন্যাকে বিবাহ না দেন, সে বিষয়টির দিকেও সঠিক নজরদারি রেখেছেন মিজানুর রহমান বাদল ।

এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে কোম্পানীগঞ্জ একসময় যথেষ্ঠ পিছিয়ে পড়েছিল। সেই পিছিয়ে পড়া কোম্পানীগঞ্জকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করছেন মিজানুর রহমান বাদল।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাশের হার শতভাগের কোঠায় এবং ঝরে পড়ার হার শতকরা ৯ ভাগে নেমে এসেছে। যা একটি অভাবনীয় সাফল্য।

সূত্র আরো জানা যায়, শুধু প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রেই মিজানুর রহমান বাদলের কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ নেই। স্বাস্থ্যখাতেও বিশেষ অবদান রাখায় তিনি চলতি বছর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

মিজানুর রহমান বাদলের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় ও ওবায়দুল কাদেরের সার্বিক সহযোগীতায় কোম্পানীগঞ্জের কয়েকটি জনপদের চেহারা বদলে যাওয়ার পাশাপাশি, এখানে আলোর ছোঁয়া লেগেছে।

মিজানুর রহমান বাদল স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে যেভাবে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন একইভাবে দেশের প্রত্যেকটি উপজেলার সকল সুবিধাবঞ্চিত স্কুল বা এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে, বদলে যেত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অনেক কিছু। ঝরে পড়া রোধ হত, সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হত আগামীর ভবিষ্যৎ। এমনটিই ধারনা কোম্পানীগঞ্জের সচেতন মহলের।

আর্কাইভ