দুর্গাপূজায় সিরিজ বোমা হামলার পরিকল্পনা জেএমবি’র

 

শারদীয় দূর্গোৎসবের সময় পূজামণ্ডপে রিমোট বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। জেএমবি পূজা চলাকালীন ১৭ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে যে কোনো দিন মাধববাড়ি, কালীবাড়ি, শিববাড়ি, পালবাড়িসহ জয়দেবপুরের সকল মন্দিরে একযোগে বোমা হামলা করার পরিকল্পনা করেছে । জেএমবি সদস্যদের মধ্যকার মোবাইল ম্যাসেজ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জেএমবি সদস্যদের ম্যাসেজে বলা হয়েছে, ‘খোদার দুনিয়ায় কোনো মূর্তি পূজা করতে দেব না । ১৭ থেকে ১৯ তারিখ মাধববাড়ি, কালীবাড়ি, শিববাড়ি, পালবাড়ি সহ জয়দেবপুরের সকল মন্দিরে একযোগে বোমা হামলা করবো যা রিমোটের দ্বারা ফোটানো হবে। কোনো মাটির মূর্তির পূজা করতে দেয়া হবে না। আইনের লোক আমাদের কিছুই করতে পারবে না’।

জেএমবির গোপন সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাচনের আগে দেশকে অশান্ত করতে ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই মূলত পূজা মণ্ডপে সিরিজ বোমা হামলা করবে তারা। ইতোমধ্যে নব্য জেএমবি সদস্যদের মোবাইলের ম্যাসেজের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও জানায় সূত্র। বোমা হামলার জন্যে অর্থ সংগ্রহ করে বিস্ফোরক মজুদ করা হয়েছে। টার্গেট ঠিক করে সুযোগ বুঝে হামলা করা হবে। প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে জেএমবি সদস্যদেরকে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন জেএমবি দেশের ৬৩টি জেলার ৫০০ পয়েন্টে একই সময়ে বোমা হামলা চালিয়ে আলোচনায় উঠে আছে। পরবর্তীতে নিষিদ্ধ করা হয় এই জঙ্গি সংগঠনকে। সংগঠনটির শীর্ষনেতাদেরও ঝুলানো হয় ফাঁসিতে।

২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, সহযোগী আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর জেএমবির কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জঙ্গি তামিম চৌধুরী দেশে ফিরে এসে নতুন করে জেএমবিকে সংগঠিত করে। এর নাম দেয় নব্য জেএমবি।

নির্বাচনের আগে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছে জেএমবি সদস্যরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের এমন একটি  বড় উৎসবে বোমা হামলা করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সহ বিদেশেও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাচ্ছে এই জঙ্গি সংগঠনটি।