জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় জমির বিরোধ, ভাঙচুর, হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন মোহাম্মাদ আলী নামের এক ব্যক্তি।

এছাড়াও মামলার আসামি করা হয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন ও গণস্বাস্থ্যের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম শিশির হোসেনকে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া ইউনিয়নে ৪.২৪ একর সম্পত্তি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা গত ১৪ অক্টোবর জোরপূর্বক দখল করে নেয়। দখল করার আগে স্বেচ্ছায় নামমাত্র মূল্যে জমিটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টের নামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন জমির মালিক। জমি না দিলে এক কোটি টাকা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টের নামে দান করতে বলা হয় জমির মালিককে।

জমির মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, অবৈধভাবে জমিটি দখল নিয়ে আসামি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে। জমিটির আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা।

অভিযোগের বিষয়টি জানতে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের মোবাইলে কল দেয়া হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক দিপু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রাস্ট এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তিনি এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন।

এর আগে বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য করায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে সেনা সদর। এতে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে জাফরুল্লাহসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় শুক্রবার এই জিডি করেন সেনা সদরের মেজর এম রকিবুল আলম। জিডি নম্বর ৪৯৮। গত ৯ অক্টোবরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ‘সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও নির্দেশ’ পাওয়ার কথাও জানানো হয়।

ইতিমধ্যে জিডিটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই জিডিটি গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো: আব্দুল বাতেন বাসসকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।

সেনা সদর দপ্তরের জিডিতে জাফরুল্লার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করা হয়েছে। কেন, কী উদ্দেশে এবং কাদের প্ররোচনায় তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন তাও তদন্তের কথা জানানো হয়।

গত ৯ অক্টোবর রাতে সময় টিভির সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাফরুল্লাহ। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎসের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আজিজ আহমেদ চট্টগ্রামের জিওসি থাকাকালে বেশ কিছু অস্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই বক্তব্য নজরে আসে সেনা সদরদপ্তরের। আর সেখান থেকে জানানো হয়, আজিজ আহমেদ কখনও চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন না। আর তিনি তার চাকরি জীবনে কখনও কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হননি।

এরপর জাফরুল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।