জাতীয় ঐক্যের পর এবার ভাঙছে ২০ দলীয় জোট

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্পধারা সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় সঙ্গে বিএনপি মিলে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ঘোষণা করেছে সেটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সমন্বিত রূপরেখা ঘোষণার আগ মুহূর্তে এই ফাটল স্পষ্ট হয়।

সরকার বিরোধী এই ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’র রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করতে শনিবার যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপি নেতাদের বসার কথা ছিল। তার পরিবর্তে আলাদা কর্মসূচিতে মিলেছে বিভক্তির আভাস।

বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাড়ে ৩টার দিকে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান ছেলে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরীকে নিয়ে। কিন্তু বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে গাড়িতেই কিছুক্ষণ বসে থেকে ফিরে যান তারা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে যুক্তফ্রন্টের প্রধান দল বিকল্পধারাকে বাইরে রেখে নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এ ফ্রন্টে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপি।

জাতীয় ঐক্যের ভাঙনের পর এবার ২০ দলীয় জোটেও ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। বিএনপি যেদিন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করেছে, শনিবার রাতেই ২০ দলের অন্তত ৬টি শরিক দল আলাদা বৈঠক করেছে। এই শরিক দলগুলো ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’কে অযোগ্য এবং ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ বিরোধী ঐক্য বলে অভিহিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলডিপির নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বলা হয়েছে, ২০ দলীয় জোটের ফোরামে আলোচনা না করে, এরকম ঐক্যে গিয়ে বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিকদের অপমান করেছে। কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ঐ বৈঠকে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টকে ভাগ বাটোয়ারার ঐক্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর কল্যাণ পার্টির নেতা জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে বিএনপির চূড়ান্ত বিলুপ্তি ঘটেছে’।

২০ দলীয় জোটের যেসব শরিকরা এই বৈঠকে ছিলেন তারা হলেন- এলডিপি, বিজেপি, জাগপা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ন্যাপ এবং লেবার পার্টি।