ক্লিনিক গুলোতে চলছে সিজারের নামে গলাকাটা বাণিজ্য।

 

সিজারিয়ান সেকশন এখন দেশের বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা রোধ তো করা যাচ্ছেই না, বরং দিন দিন প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো প্রসূতি পেলেই প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর এক শ্রেণীর চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাই বিভিন্ন অজুহাতে রোগীকে নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে কৌশলে মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে।

এমনকি সিজার না হলে মা কিংবা নবজাতকের ক্ষতি হওয়ার ভয়ও দেখানো হয় অনেক ক্ষেত্রে। নিরুপায় হয়ে প্রসূতি ও তার স্বজনরা নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ্য সন্তানের স্বার্থে হাসপাতালের প্রত্যাশায় সায় দেয়। আর সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসব পদ্ধতিতে রাজি হলেই শুরু হয় টাকা হাতানোর হিসাব কষাকষি।

নরমাল ডেলিভারির চেয়ে সিজারিয়ানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অনেক বেশি টাকা পায়। হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষেরও এতে ব্যবসা বেশি। কারণ বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়, ওষুধ বেশি লাগে, অপারেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচও বেশি আদায় করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশনের পর প্রসূতির অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু আক্রমণ দেখা দেয়। এতে হাসপাতালের ব্যবসা বেড়ে যায়। আর নরমাল ডেলিভারি হলে রোগী এক-দুই দিনের মধ্যে বাসায় চলে যেতে পারে।

কিন্তু সিজারিয়ান হলে আগে-পরে মিলিয়ে রোগীকে প্রায় এক সপ্তাহ থাকতে হয়। এতে হাসপাতালের কেবিন বা বেড ভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের নামে অনেক বেশি টাকা আদায় করা সম্ভব।

এদিকে প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকের দেখাদেখি এখন সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও’র হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোয়ও সিজারিয়ানের প্রবণতা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, সারাদেশে সরকারিভাবে প্রসূতিদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলায় জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। কোনো কোনো জেলায় আবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও রয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রধানমন্ত্রী মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। তবে এসবের পরেও সারাদেশে সিজারিয়ান অপারেশনের নামে গলাকাটা বাণিজ্য করছে একশ্রেণীর চিকিৎসক এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
মফস্বলে অনেক গাইনি চিকিৎসক নামধারীদের গাইনি চিকিৎসায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অ্যানেসথেশিয়া (অজ্ঞান করা) বিষয়ে কোনো উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেই। টাকার লোভে তারা সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকে। সরকারি হাসপাতালের কিছু ডাক্তারও এসবের সঙ্গে জড়িত। অনভিজ্ঞ ডাক্তাররা স্পাইনাল কর্ডে অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে অপারেশন করে যাচ্ছে।

অনেক সময় হাতুড়ে ডাক্তারও প্রসূতির অপারেশন করছে। কোনো কোনো সময় নার্সরাও অপারেশন করছে। এ ধরনের ক্লিনিকে পাঠিয়ে কমিশন পাচ্ছে একশ্রেণীর ডাক্তার। এছাড়া প্রসূতিদের ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেয়ার জন্য তাদের ভেতনভোগী দালালও রয়েছে সরকারি হাসপাতালে।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ মাতৃত্বের নামে যাতে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক সিজারিয়ানের নামে অনৈতিক ব্যবসা করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারের সক্রিয় ও শক্ত ভূমিকা নেয়ার আকুল আবেদন।