বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট

শিশুদের মানসিক বিকাশ, স্বাস্থ্য বিষয়ে মনোযোগী ও প্রতিযোগীতামূলক মনোভাব সৃষ্টি, বিদ্যালয়ের পরিবেশ আনন্দময় এবং সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এছাড়া ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সকল বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, আগ্রহ এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে এ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে আনয়নের অংশ হিসেবে এবং পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, ঐক্য এবং প্রতিযোগীতার সহায়ক হিসেবে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন পর্যায় হতে জাতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে ২০১০ সালে ৫৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তির পর ২০১১ সাল হতে ছাত্রীদের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। ২০১১ সালে ইউনিয়ন পর্যায় হতে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় এ যথাক্রমে ৬০৭৭৬টি ও ৫৯৭০০টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। বাঙালির প্রিয় খেলা ফুটবল দেশের এ ক্ষুদে শিশু শিল্পীদের জাদুকরী ছোয়ায় নতুন প্রাণ পেয়েছে। আমি দেখতে পেয়েছি। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার সকল ক্রীড়ামোদী মানুষের বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যালয়কে নিজের মনে করতে শিখেছে। বিদ্যালয়ের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ২০১১ সাল থেকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে সফল করার লক্ষ্যে আর্থিক অনুদান খেলার সামগ্রী ও সক্রিয় সহযোগিতা দিয়ে আসছি। আমি দেখেছি যে পূর্বের তুলনায় এই টুর্নামেন্ট বিদ্যালয়ের জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া এ টুর্নামেন্টের সফলতা আমি দেখতে পাচ্ছি বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশের ফুটবল ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আবির্ভাব। বিগত বছরগুলোতে এ এফসি অনুর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়ানশিপ বাচাইয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা কেমন পারপরমেন্স করছে তা সকল ফুটবল প্রিয় মানুষ লক্ষ্য করেছেন। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ঢাকার মাঠেই এ এফ সি অনুর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাচাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমবারের মতো তখন এশিয়ার সেরা ৮ দলের একটি হিসেবে থাইল্যান্ডে মূল আসরেও অংশ নেই বাংলাদেশ দল। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টই এ সফলতার মূলে ভূমিকা রাখছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বের হয়ে আসতে এই টুর্নামেন্ট এর ভূমিকা রয়েছে। এর পরোক্ষ প্রভাবে বিদ্যালয়ের শিশুদের ঝরে পড়া হার কমছে এবং উপস্থিতি হার বেড়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তার ফসলই বর্তমান ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য।

মিজানুর রহমান বাদল,
চেয়ারম্যান,কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ