নির্বাচনী ইস্তেহারে যুক্ত হোক সেফটি নেট সেল

 

সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আধুনিক কল্যানমুখী রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ। বাং লাদেশ সরকারও স্বাধীনতার পর থেকে পিছিয়ে পড়া,হত দরিদ্র, পঙ্গু,দুস্থ, অসহায় প্রভুতি লোকদের কল্যানার্থে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করে যা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২২টি মন্ত্রনালয়ের অধিনে ১৪৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৯৬ লাখ জনগন এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থেকে জনগনের জীবনমান উন্নয়নে নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছে।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে যা মোট বাজেটের ১৩.৮১% এবং মোট জিডিপির ২.৫৩%।
তবে দুর্ভাগ্যজনক স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির একক বলয় বা কেন্দ্র সরকার গড়ে তুলতে পারেনি।সমাজ সেবা অধিদপ্তর,যুব উন্নয়ন,নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়,স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় প্রভৃতি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি বাস্তবায়ন করে থাকে।ফলে এক দপ্তরের সাথে আরেক দপ্তরের কোন সমন্বয় হয়না, উপকার ভুগী একই সাথে একাধিক কর্মসূচির সাথে যুক্ত হলেও যারা বঞ্চিত তারা বঞ্চিতই থাকে যার কারনে সরকারের এই মহৎ উদ্যেগটি বিভিন্ন দুর্নিতি,স্বজনপ্রীতি তে পরিনিত হয়ে স্থানীয় সরকার বা সংস্থাগুলোকে দুর্নিতির ভাগারে পরিণিত করেছে।
আমাদের দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বলতে এক কথায় হত দরিদ্র জনগনকে বোঝায় কিন্তু শিক্ষিত,অর্থ সম্পদ সম্পূর্ন মানুষরাও যে সামাজিক নিরাপত্তার উপকার ভোগী হতে পারে তা আমাদের রাজনীতিবিদদের কল্পনারও বাইরে।নেশায় আশক্ত বিশাল সম্প্রদায়,আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ফসল ধর্মীয় জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদ,আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার, আমি তুমি টাইপের এই একক পরিবারে পরকিয়া ও চরম ব্যক্তিত্ব বা ব্যক্তিচর্চা, বৃদ্ধ বয়সে বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো,মা বাবাকে শেষ বয়সে না দেখে রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ে ফেলে দেয়া প্রভৃতি আমাদের গ্রাম শহর নগর সব খানেই সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।মস্তিস্কের বিকৃত রুচিবোধও যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য নিয়ে আসা জরুরী এবং সময়ের চাহিদা তা এখন পর্যন্ত এ দেশের রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়করা অনুধাবন করতে পারেনি।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ৫-১০ %ধনীরা ব্যথিত সবাই কম বেশী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থেকে কোন না কোন ভাবে উপকৃত হয়
সেখানে সার্বজনীন পেনশন সুবিধা ও বেকার ভাতার মতো কর্মসূচি আছে যা আমাদের দেশে এখনো কল্পনার কষ্ট।
বাজেটেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে, নেপাল ও ভুটানের তুলনায় এ খাতে আমাদের বরাদ্ধ কম,সামাজিক নিরাপত্তায় তুরস্ক যেখানে জিডিপির ১৩.৫% ব্যয় করে সেখানে বাংলাদেশ সরকার করে মাত্র ২.৫৩%।তাই বাংলাদেশে মাত্র ২৮.৪%লোক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকলেও অষ্ট্রেলিয়ায় এ হার ৮৫%এর উপরে।

দেরিতে হলেও বর্তমান সরকার দরিদ্র্যতম ৭টি জেলায় ৪৩টি উপজেলায় ৪৪৩ টি ইউনিয়ন পরিষদে আইএসপিপি -যত্ন প্রকল্প নামে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর একক প্রোগ্রাম চালু করলেও তা জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান সে ভাবে হচ্ছে না।আবার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনুধাবন করতে হচ্ছে যে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কতটা ভঙ্গুর ও সমস্যায় জর্জড়িত। সারাদেশকে একক ভাবে সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্য নিয়ে আসা এখন সময়ের চাহিদা,তাই আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলগুলো এর গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের রাজনৈতিক ইস্তেহারে এই সোশ্যাল সেফটি নেট সেল রাখবে এবং ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে সেই প্রত্যাশা কোটি কোটি জনগনের।

মোঃ শফিকুর রহমান
উন্নয়ন কর্মী
আইএসপিপি যত্ন প্রকল্প
মেইলঃmpsafikul@gmail.com