রাজনীতি ব্যবসায় লাভবান না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হচ্ছেন তারেক

 

নিউজ ডেস্ক : বিএনপির রাজনীতিতে লাভের মুখ দেখতে না পারায় অবশেষে রাজনীতি বাদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন দিচ্ছেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, দেশে ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশা এবং দলের চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে যাওয়ায় বিএনপির রাজনীতিকে অলাভজনক ব্যবসা বিবেচনা করে দলীয় প্রধানের পদ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে ব্যবসা দেখভাল করায় মনোযোগী হচ্ছেন তারেক রহমান। সেন্ট্রাল লন্ডনের এডমন্টনের স্থানীয় একটি বারে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম ভুঁইয়া ও পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার সাথে কথপোকথনের ফাঁকে নিকটে বসে থাকা স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির নেতা আবদুস সাত্তারের বরাতে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানা যায়।

আবদুস সাত্তার বলেন, ৩ অক্টোবর এডমন্টনের স্থানীয় ‌’চ্যালিস বে’ বারে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে উপস্থিত হই। এসময় তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী ও তার ম্যানেজার সেলিম ভুঁইয়া ও পাকিস্তান দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তাকে আমাদের পাশের টেবিলে বসে মদ গিলতে দেখে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সেলিম ভুঁইয়া স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে মাতাল ও দুর্নীতিবাজ বলেই বেশি পরিচিত। এছাড়া তারেক রহমানের অবৈধ সম্পত্তির পাহাদার হিসেবেও তার বদনাম রয়েছে। কমিউনিটির সবাই জানে, সেলিম ভুঁইয়া তারেক রহমানের চুরি ও লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করেন। এসব কারণে সেলিমকে প্রায়ই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, কেইম্যান আইল্যান্ডে যেতে হয়। কারণ এসব দেশে তারেক রহমানের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা আছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তারেক নামে-বেনামে বিভিন্ন উৎস থেকে দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বিনিয়োগ করেছেন। যার কারণে একযুগের বেশি ক্ষমতার বাহিরে থেকেও লন্ডনের মত ব্যয়বহুল শহরে বাদশাহী জীবন যাপন করেন তারেক। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি থেকে লাভবান না হতে পারায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন তারেক। সে কারণেই কমিউনিটির অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন না তিনি।

আবদুস সাত্তার আরো বলেন, তারেক রহমানের হতাশার আসল কারণ জানতে পারি সেদিন বারে মাতাল হয়ে যাওয়া ভুঁইয়ার মুখ থেকে। ভুঁইয়া মদের বারে উপস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তাকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দুর্দশার কথা বর্ণনা করছিলেন। ভুঁইয়া আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতির কারণে জেল হাজতে বন্দি জীবন পার করছেন। এদিকে একাধিক মামলার রায় নিয়ে বিদেশে উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছেন তারেক স্যার। ১০ অক্টোবর একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় দিবে। সেখানে নির্ঘাত আমার তারেক স্যার ধরা খাবেন। কারণ তার সরাসরি মদদে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এটি আবার প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং তারেক স্যার কোন ভাবেই দেশে ফিরবেন না। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতারা বিশেষ করে মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র, নজরুল ইসলাম খানের মত নেতারা তারেক স্যারের কথা শুনছেন না। এরা সব বর্ণচোরা এবং সুবিধাবাদী। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোটি কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েও লাভ হয়নি তারেক স্যারের। টাকা পেয়েই নেতারা লুটপাট শুরু করেন। শুনেছি মির্জা ফখরুলরা সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে চায়। লোক দেখাতে দু-একটা আন্দোলন করে তারেক স্যারের টাকা নষ্ট করছেন নেতারা। এছাড়া তারেক স্যারের স্ত্রী মানে আমাদের জোবায়দা ম্যাডামও বিএনপির রাজনীতিতে নাখোশ। তিনি খালেদা জিয়ার জায়গা নিতে চান না। তাই বিএনপিকে আল্লাহর ভরসায় ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন দিচ্ছেন তারেক স্যার। যে বিএনপি এক সময় বস্তা বস্তা টাকার যোগান দিত, সেই বিএনপি আজ তাকে হতাশ করছে। সুতরাং রাজনীতির ব্যবসা বাদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তারেক স্যার।

সেলিম ভুঁইয়া ও পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কথোপকথন শুনে বিস্মিত হয়ে পড়েন আবদুস সাত্তার ও তার বন্ধুরা। অপরাধ, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সত্যিই কী তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে আসছেন? নাকি সাময়িক রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নতুন করে কোন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করছেন তারেক, সেটি ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়েন তারা।