বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হতে যাচ্ছেন জমির উদ্দিন সরকার?

বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদে থাকছেন না। দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে পলাতক আছেন তিনি। দেশে এলেই মা খালেদার মতো তাকেও কারাগারে যেতে হবে আর সেই ভয় থেকেই দেশে আসছেন না তিনি। তাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হয়েও তারেক এখন নিষ্ক্রিয়। তাই ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি ।

চলতি মাসেই ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ার কথা। বিএনপি আশঙ্কা করছে রায়ে তারেক রহমানের বড় ধরণের সাজা হবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি তথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক আর সক্রিয় হতে পারবে না। তারেকের দুর্নীতি ও নানা ধরণের অপকর্মের কারণে দেশে ও বিদেশে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই সিনিয়র নেতারা তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরে যেতে প্রস্তাব করেছে। সিনিয়র নেতারা উক্ত পদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে বসাতে একমত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানায়, তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপরসন করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তার বদলে জমির উদ্দিন সরকারের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপরসন হতেন, তাহলে বিএনপির এমন দু:সময়ের মুখোমুখি হতে হতো না। সেই বিবেচনা থেকেই জমির উদ্দিন সরকারকে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে সামনে রাখতে চায়।

সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠন করা জাতীয় ঐক্যের অন্যতম অঙ্গীকার। তারেক  দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী মামলায় দন্ডিত হয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন। দুর্নীতি ছাড়া তারেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেরও অভিযোগ রয়েছে। আদালত কর্তৃক দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ দলের প্রধান থাকতে পারে না। সেই দলের প্রতি সহানুভুতি দেখানো কিংবা তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য একটি কঠিন বিষয়। কারণ কোন রাষ্ট্রই দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারেকের মতো দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন থাকলে বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যে নেবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা জানায়, বিএনপির বর্তমান অবস্থার জন্য তারেকের দুর্নীতি আর অপকর্ম গুলোই দায়ী। তারেককে ছাড়তেও জাতীয় ঐক্য শর্ত দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হতে ও দলের সুনাম ফিরিয়ে আনতে তাই তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরে যেতে প্রস্তাব দিয়েছে নেতারা। তারেকের পরিবর্তে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে উক্ত পদে বসাতে আগ্রহী তারা।