নির্বাচনের আগে বিএনপিতে চূড়ান্ত কোন্দল, সিন্ডিকেট

 

সমাবেশ ডাকা হয়েছিলো নির্বাচনের আগে দলকে গুছিয়ে নিতে। হলো বিপরীত। অন্ত:কোন্দল, সিন্ডিকেট এবং বিভাজনে বিএনপি এখন দিশেহারা। অরাজাকতার মামলা হয়েছিলো দলের বেশকিছু নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। কীভাবে মাত্র ৭ জন নেতা আগাম জামিন নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেই প্রশ্ন দলের মধ্যম সারির নেতা আর কর্মীদের মাঝে। সরকারের সাথে আঁতাত করা ছাড়া এভাবে কী আদৌ ঘুরে বেড়ানো সম্ভব?

গত ১ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় সরকার বিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছ পুলিশ। মামলায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানকে আসামি করা হয়। তবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর জামিন না হওয়ায় দলের ভেতর আর বাইরে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেছেন রিজভীর মত ত্যাগী নেতা কী দলীয় ষড়যন্ত্রের স্বীকার?

জামিন পাওয়া নেতারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

দলের নারী নেত্রী এবং কর্মীরা হাই কমান্ডের কাছ থেকে নিশ্চয়ই বিশেষ সুবিধা পান। এমনটা না হলে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বাদ দিয়ে সমাবেশে এতজন নারী নেত্রী কীভাবে বক্তব্যের সুযোগ পান? জাতীয়তাবাদী ছাত্র এবং যুবদলের অনেক কর্মীর সাথে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেল।

গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মত যোগ হয়েছে সিন্ডিকেট। বিএনপি এখন বিভিন্ন সিন্ডিকেটে বিভক্ত। মূলত তারেক জিয়া এই দলটিতে প্রবেশের পর থেকেই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের শুরু। অর্থের বিনিময়ে নমিনেশন বিক্রি, নারী কর্মী ও নেত্রীদের কাছ থেকে অবৈধ অসামাজিক সুযোগ নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত পদ নির্বাচন, অর্থের বিনিময়ে দলীয় পদ বিক্রিসহ নানান নৈরাজ্যে দেশের এই জনপ্রিয় দলটি আজ বিপন্ন ও বিপর্যস্ত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অনেকেই দলের এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। এই দুই জ্যেষ্ঠ নেতাই যে যার মত অবৈধ উ‌ৎকোচের বিনিময়ে দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে সুবিধা দিয়ে থাকেন। খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার অনুপস্থিতিতে দুজনই যে যার মত সিন্ডিকেট বিস্তৃত করে নিয়েছেন। এই দুজনের সিন্ডিকেটের বাইরে তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার চর হিসেবেও বিভিন্ন নেতা আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার তারেক জিয়ার সাথে তার স্ত্রী জোবাইদাও নতুন করে নিজের লোকজন দিয়ে নতুন সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রুহুল কবীর রিজভীর মতই তারেক জিয়া আর জোবাইদা রহমানের দ্বন্দ্ব এখন ওপেন সিক্রেট।

নির্বাচনের আগে এমন বিভক্তি কিভাবে সামাল দেয় বিএনপি- তা দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।