জাতীয় ঐক্যের নেতাদের শয়তান বলায় বিএনপির উপর ক্ষুব্ধ জোটের নেতারা

 

গত রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপির নেতারা জাতীয় ঐক্যের নেতাদের শয়তান বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর এতেই খেপে গিয়েছে জাতীয় ঐক্যের নেতারা। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করার চিন্তা করা যায় না বলেও মনে করছেন তারা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ সম্পর্কে বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন, তাদের দৃষ্টিতে আমরা কি তাহলে শয়তান হয়ে গেলাম? আমরা কোনোভাবেই শয়তান হতে পারি না। এমনকি শয়তানের সঙ্গেও ঐক্য করতে রাজি নই। জাতীয় ঐক্যের নামে এ ঐক্য প্রক্রিয়াটা গড়ে উঠেছিল বা অনেকখানি এগিয়েছিল। এটি মানুষের ব্যাপক আস্থাও অর্জন করেছিল। আমি মনে করি এটা বিএনপির নেতারা বুঝেছেন। আজকে যদি তারা বলেন যে, সেটাও দরকার নেই, রাজপথে আমরা যুদ্ধ করবো’।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর আন্দোলন করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অনেক মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে। সেই আন্দোলনের পথে আমরা কি করবো- না করবো সেটা দুই দিনের জাতীয় ঐক্যের নেতাদের জিজ্ঞেস করবো না’।

বিএনপি বলছে জাতীয় ঐক্যের নেতারা তাদের শর্ত দিয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া যাবে না, তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলা যাবে না, ঐক্যে জামায়াতকে নেওয়া যাবে না । আর এ শর্তগুলোর কারণে বিএনপি ভাবছে জাতীয় ঐক্য মূলত সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। নাহলে তারা এসব শর্ত দিত না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ঐক্যের একজন নেতা জানায়, ‘বিএনপি থাকলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালাও-পোড়াও করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করবে এবং যেকোন মূল্যে নির্বাচন বর্জন করার চেষ্টা করবে, যেটি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তাই তারা বিএনপিকে শর্ত দিয়েছে। এজন্য যদি বিএনপি জাতীয় ঐক্যকে শয়তান বলে তাহলে সেটা দুঃখজনক’ ।

বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা বক্তৃতায় জাতীয় ঐক্যের নেতাদের শয়তান মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ ঐক্য প্রক্রিয়া নেতৃবৃন্দ। ড. কামাল ও বি. চৌধুরীসহ আরও অন্যান্য নেতাদের কাছে খরবটি পৌঁছালে তারাও বিএনপির উপর খেপে গেছেন এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বিএনপিকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।