কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষায় মিড-ডে-মিল বাস্তবায়ন

আমির হোসেনঃ-

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি স্বপ্ন ছিল ক্ষুদা মুক্ত,দারিদ্রমুক্ত, শোষনহীন একটি দেশ হবে বাংলাদেশ যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।যদি লক্ষ থাকে অটুট ,বিশ্বাস হৃদয়ে -হবেই হবে দেখা, দেখা হবে বিজয়ে-এই বাক্যটি তিনি অন্তরে ধারন করেন এবং বিশ্বাস ও করেন।তাইতো তিনি একটি লক্ষ স্থির করছেন ভিশন -২০৪১।

তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুখী সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে কাজ করতে হবে ।আর তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন মিড-ডে-মিল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, তার জন্য প্রাথমিক শিক্ষায় মিড-ডে – মিল নামে একটি কর্মসূচী ২০১৬ সালে হাতে নিয়েছেন।

দুপুরের খাবার স্কুলে খাবো,রোগ মুক্ত জীবন গড়বো “বর্তমানে মিড-ডে মিল বাংলাদেশে একটি সফল কর্মসূচী ।এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক,শিক্ষার্থী এবং জনপ্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত হয়ে এর সফল বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন প্রাথমিক এ কর্মসূচী যখন প্রথম এলো তখন বিভিন্ন ব্যক্তি ,অভিভাবক,মিডিয়ায় আলোচনা চলছিল যে, এরকম কর্মসূচী আমরা কি ভাবে বাস্তবায়ন করব? প্রথমত-বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো তার মধ্যে শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা আসলো।

সেই কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে আসার সময় অর্ধাহারে অনাহারে আসে।সকাল ৯ টা থেকে দুপর ১২ টা পর্যন্ত প্রথম অধিবেশন চলে।দ্বিতীয় অধিবেশন ১২:৩০ মিঃ থেকে ৩০মিঃ বিরতি সহ বিকাল ৪:৩০মিনিট পর্যন্ত চলে।এই দীর্ঘ সময়ে তাদের পেটের ক্ষুদায় তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।তাই ২০১৮ সালের মীনা দিবসের শ্লোগান ছিল “মায়ের দেয়া খাবার খাই মনের আনন্দে স্কুলে যাই ।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। শিশুরা যদি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় তাহলে জাতি একটি রোগমুক্ত প্রজন্ম পাবে।তাই জনপ্রতিনিধিরা এই মহান কর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মহিয়ান হচ্ছে।নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমি মিড-ডে-মিল নিয়ে মা সমাবেশ করেছি।তারমধ্যে ২০১৬ সালে প্রথম উত্তর চরফকিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোহ গ্রহন করি এবং শিশুদের সাথে মিড-ডে-মিল এ অংশ নিই।

এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০০০ টিপিন বক্স বিতরন করি।এবং শিশুদেরকে উৎসাহিত করার জন্য প্রায় কোন না কোন বিদ্যালয়ে শিশুদের সাথে মিড-ডে -মিলে অংশ নিই ।

শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মতে মিড-ডে-মিল কর্মসূচী সরকারের একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচী ।এর ফলে দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। দুপুরের পরের ক্লাসগুলোতে মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সকল মানুষের আন্তরিকতাই আমরা এখানে শতভাগ বিদ্যালয়ে মিড-ডে -মিল বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।

এ সময় তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা আপনাদের নিজ হাতে রান্না করা খাবার সন্তানদের হাতে দিবেন।এতে আপনাদের সন্তান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।দেখবেন একদিন আপনার সন্তান দেশের মুখ উজ্জল করবে।

তিনি সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ করে বলেন আসুন মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ উদ্যোগ মিড-ডে-মিল কার্যক্রম শতভাগ অব্যাহত রাখার জন্য আমরা অভিভাবক,শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ-সকলে একসাথে কাজ করি।