সমাবেশে সেলফি তোলা নিয়ে হুড়োহুড়ি, আহত মির্জা ফখরুল

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভার মঞ্চে নেতা কর্মীদের সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। অনেক নেতা কর্মীকে সেলফি তোলা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করতেও দেখা যায়।

রবিবার দুপুর ১২টার দিকে দলীয় সংগীত বাজিয়ে বিএনপির জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে-পরে মঞ্চে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মী উঠে সেলফি তুলতে শুরু করে। কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার মঞ্চ থেকে নেমে যেতে কর্মীদের অনুরোধ করলেও কর্ণপাত করেনি তারা। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা যায় ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এক পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল উত্তেজিত হয়ে সবাইকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বললে কর্মীদের কয়েকজন মির্জা ফখরুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়, এতে মঞ্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে নীচে পড়ে যায় মির্জা ফখরুল। এ সময় মঞ্চের উপর নেতা কর্মীদের হট্টগোল-হুড়োহুড়ি শুরু হলে কর্মীদের পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে আহত হন মির্জা ফখরুল।

এদিকে, সমাবেশের পাশে তৈরি করা ঢাকা মহানগর পুলিশের বুথে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা না গেলেও সেখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের দেখা যায়। ওই বুথেও সেলফি তোলা নিয়ে কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, বিকালে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য চলাকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং চেয়ার ভাঙচুর করতে দেখা যায় তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে। এ সময় মঞ্চের সামনে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে এবং পূর্ব-বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

দলীয় সমাবেশে সামান্য সেলফি তোলা নিয়ে এমন বিরোধের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারো হাসি তামাশার পাত্রে পরিণত হল বিএনপি। দলীয় হাই-কমান্ড কিভাবে এ বিষয়গুলো সামাল দেয় তা দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।