বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তারেকপন্থী নেতারা

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা। শুধুমাত্র খালেদা জিয়া ও ফখরুলপন্থী নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তারেক রহমানপন্থী নেতারা চরম হতাশ হয়েছেন।

তাদের এমন পক্ষপাতিত্বে মন ভেঙ্গে গেছে তারেকপন্থী নেতাদের। শুধুমাত্র তারেক রহমান দেশে না থাকার কারণে মির্জা ফখরুলরা তারেকপন্থী নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে হেনস্থা করেছেন বলেও আক্ষেপ করেছেন তারা। তারেকপন্থী একাধিক সিনিয়র নেতা রাত জেগে বক্তব্য দেওয়ার প্র্যাকটিস করেও মাঠে এসে সুযোগ না পাওয়ায় তারা মনোকষ্টে ভুগছেন। বক্তব্য না দিতে পারার কারণে এরই মধ্যে একাধিক সিনিয়র নেতা পার্টি অফিসে হাজিরা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে না পারার কারণে দলটির একাধিক বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জিহ্বায় প্রায় জং ধরে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন হাজারো নেতা-কর্মীদের সামনে নিজেদের নেতা সাব্যস্ত করার জন্য বেশ উৎফুল্ল ছিলেন দলটির নেতারা। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বড় একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দলটির তারেকপন্থী নেতারা। তার জন্য অনেক নেতাই আগের রাতে বক্তব্য লিখে বাসায় রাতভর প্র্যাকটিসও করেছিলেন। তাদের আশা ছিল একে একে তারা উপস্থিত কর্মীদের সামনে বক্তব্য দিয়ে নিজেদের আবারো সংগ্রামী নেতা হিসেবে প্রমাণ করবেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারেকপন্থী নেতাদের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে আগের রাতেই বক্তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন মির্জা ফখরুল। এই তালিকায় তিনি শুধু খালেদাপন্থী নেতাদের নাম লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া সমাবেশে মঞ্চের প্রথম সারিতে কে কে বসবে সেটিও ঠিক করেন মির্জা ফখরুল।

জানা গেছে, গয়েশ্বর চন্দ্রকে প্রথম সারিতে বসতে দিতে রাজি ছিলেন না মির্জা ফখরুল। সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের পকেটে কিছু টাকা গুজে দেওয়ায় শেষ সময়ে এসে মঞ্চের প্রথম সারিতে জায়গা হয় গয়েশ্বর চন্দ্রের। টাকা দিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ারও সুযোগ পান গয়েশ্বর। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত তারেকপন্থী এক নেতার বরাতে জানা যায়, একে একে খালেদাপন্থী নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করলে তাদের পরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আসবে এমন ভাবনা নিয়ে উৎফুল্ল হন রিজভী আহমেদসহ একাধিক তারেকপন্থী নেতা। মির্জা ফখরুল, গয়েশ্বর চন্দ্র, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ একাধিক সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দিয়ে শেষ সময়ে রিজভী আহমেদকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলেও তারেকপন্থী একাধিক সিনিয়র নেতারা শেষ পর্যন্ত বক্তব্য দিতে পারেননি। এত প্রস্তুতি নিয়েও বক্তব্য দিতে না পারায় তারা মর্মাহত হন। এছাড়া মঞ্চে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা খালেদাপন্থী নেতা মির্জা ফখরুলদের সাথে সেলফি তুললেও রিজভী আহমেদসহ তারেকপন্থী নেতাদের সাথে কেউ সেলফি না তোলায় লজ্জায় ও অপমানে দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন রিজভীসহ একাধিক নেতারা। ওই সময় তাদেরকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।