বিএনপির সমাবেশে জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়ে হতাশ জাতীয় ঐক্যের নেতারা

বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার শর্ত দিয়ে জাতীয় ঐক্যে যুক্ত করেছিলো ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। বেশ কয়েকবার তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে ৩০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির এই সমাবেশে জামায়াত অংশগ্রহণ করায় জাতীয় ঐক্যের নেতারা স্বাধীনতা বিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা জামায়াতকে জাতীয় ঐক্যে নিতে আগ্রহী নয় তারা।

বিএনপি প্রথম দফায় জনসমাবেশে আয়োজিত বৈঠকে জামায়াতকে ছাড়াই শুধু জাতীয় ঐক্যের নেতাদের নিয়ে জনসমাবেশ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের নির্দেশে জামায়াত নেতাদের সাথে নিয়েই সমাবেশ করে।

বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় জামায়াত শিবিরের কর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পূর্বেই বিএনপি বার্তা পাঠিয়েছিলো জামায়াতের শীর্ষ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মকবুল আহমদকে। তাছাড়া, জামায়াত শিবির সমর্থিত বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, পেজ, গ্রুপ কর্তৃক উক্ত সভাস্থলে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী হওয়ার কারণে তাদের সাথে এক মঞ্চে সমাবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যের নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েক দফা জাতীয় ঐক্যের নেতাদের সাথে আলোচনা করেও কোনো লাভ হয়নি। সবশেষে, বিএনপি নীতিগতভাবে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের বাদ দিয়েই স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের দল বলে পরিচিত জামায়াতকে নিয়েই জনসমাবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিএনপি।

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, “স্বাধীনতাবিরোধী দল বা ব্যক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোনো ঐক্য হতে পারে না। বিএনপির সঙ্গে আমরা জাতীয় ঐক্য চাই, তবে এই ঐক্যে আসতে হলে বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতকে ছেড়ে আসতে হবে।”

জনসমাবেশে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পর থেকেই জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাদের তৃণমূল কর্মীদের সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে। শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে জামায়াতের তৃণমূল নেতা কর্মীরা নির্দেশ পাওয়ার পর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে জনসমাবেশে অংশগ্রহণ করে।