তারেক রহমানের নির্দেশে পূজা মণ্ডপে হামলার পরিকল্পনা, নেপথ্যে পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে হিন্দু সম্প্রদায়। রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে উৎসব ও আনন্দের সাথে পালিত হয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যেন প্রতিচ্ছবি। এবার হিন্দু সম্প্রদায়কে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিয়ে বিএনপিকে লাভবান করার জন্য দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে পূজামণ্ডপগুলোতে হামলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

সূত্রের খবরে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলে তাদের ভোট বিএনপি পক্ষে আনার জন্য ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার নতুন ষড়যন্ত্র করছেন তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির ডোনার দেশ পাকিস্তানের নির্দেশে ভারতের ওপর প্রতিশোধ নিতেই দুর্গাপূজায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তারেক। কারণ বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হলে ভারত আওয়ামী লীগ সরকারকে চাপে রাখবে এবং নির্বাচনে একতরফা সমর্থন দেবে না, এমন ভাবনা থেকেই আগামী দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য এরই মধ্যে দলের একাধিক সিনিয়র নেতাকে আদেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এবার পাকিস্তানের সহায়তায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছেন তারেক রহমান। অন্য ধর্মের ভোটাররা বিএনপিকে ভরসা করে না। কারণ বিএনপির শাসনামলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেই পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া ভারত বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে খুশি হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে যা পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর। ভারতের একতরফা সমর্থনের কারণে পাকিস্তান বাংলাদেশে অশুভ মিশন বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

পাকিস্তানের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে কট্টর মুসলিম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশে সব ধর্মের মানুষদের সমঅধিকার নিয়ে বাঁচার পক্ষে। অথচ পাকিস্তান চায়, বাংলাদেশে কোনো হিন্দু থাকতে পারবে না। সুতরাং আগামী নির্বাচনে ভারতের ওপর প্রতিশোধ নিতে এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে দুর্গাপূজাকে টার্গেট করেছে পাকিস্তান ও তারেক রহমান। মিশন সফল করতে ১লা অক্টোবর রাতে তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় উপস্থিত হন পাকিস্তান দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তা।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লন্ডন বিএনপি নেতা আবদুল মালেকের ঘনিষ্ঠ বরাতে জানা যায়, পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তারা দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকারকে ভারতের চোখে ছোট করা এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগ বিরোধী করে তোলার জন্য নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। এর বিনিময়ে কয়েক লাখ পাউন্ড খরচ করার ওয়াদা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের হাতছানি, লাখ পাউন্ডের লোভ, আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয়ে সাথে সাথে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলকে ফোন করে মণ্ডপে মণ্ডপে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মাধ্যমে হামলার ছক আঁকার নির্দেশ দেন তারেক। পাশাপাশি হামলা-হাঙ্গামার জন্য খরচ দেওয়ারও আশ্বাস দেন তারেক।

তারেকের ভাষ্যমতে , হিন্দুরা এমনিতেই বিএনপি-জামায়াতকে ভোট দেয় না। তারা ভারতের দালাল, তাদের এদেশে বাস করার অধিকার নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাদেরকে কোলে বসিয়ে রেখেছে। সুতরাং দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মণ্ডপগুলোতে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে হবে। হিন্দুদের মাঝে আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব তৈরি করতে পারলে আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট পাওয়া যাবে। এছাড়া এনিমি প্রোপার্টি দেখিয়ে তাদের জায়গা-জমি, সম্পদ দখল করে এই অভাবের দিনে ভালভাবে চলতে পারবে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। তাই পূজা উপলক্ষে হিন্দুদের মাঝে ত্রাস সৃষ্টি করতে হামলার বিকল্প কিছু দেখছেন না তারেক।