মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার

নিউজ ডেস্ক: দেশকে মেধাশুন্য করে নতুন প্রজন্মকে পথভ্রষ্ট করে ভবিষ্যত বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল দেশ বিরোধী কিছু চক্র। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে বর্তমান সরকারকে চাপে ফেলতেই এসব অপকর্ম করছিল কিছু অসাধু চক্র। বিগত কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকারের এসব ইতিবাচক পদক্ষেপে উপকৃত হয়েছেন শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরি প্রত্যাশী এবং অভিভাবক মহল। এর আগে সরকারকে বিব্রত করতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা ধ্বংসের এ মরণ খেলা বন্ধ করতে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী। এ নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন বিভাগ। যেসব পদক্ষেপ মানুষের পক্ষে নেওয়া সম্ভব তার সবই নেওয়া হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তারাও এক ধরণের সন্ত্রাসী। দেখা গেছে, সারা দেশের কোথাও এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান এবং বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি।

আগামী ৫ অক্টোবর থেকে সারাদেশে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা শুরু। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের নজরদারী, সার্ভেইল্যান্স বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস রোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনা সৃষ্টি এবং প্রশ্ন ফাঁস করলে শাস্তির বিধান বিষয়ে সচেতন করতে এরই মধ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট, মেধাবী ও কেবল উপযুক্ত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হলেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারবে। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই আগামী দিনে বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সম্পদ। সুতরাং এই সেক্টরে মেধার পূর্ণ বিচরণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ায় পরীক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের চালু করা হট লাইনটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো আলামত পেলেই হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অবস্থান নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়া নজরদারি রেখেছে প্রশাসন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণাকারীদের শনাক্ত করছে। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিবহন, বিতরণসহ সব পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মধ্যে প্রশ্নের একাধিক সেট প্রণয়ন ও পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড নির্ধারণ অন্যতম। সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার দিন সকালে ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করতে হয়েছে। ট্রেজারির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলোতে মাত্র আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়। আর পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে সেট কোড ব্যবহারের নির্দেশনার এসএমএস যাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে পারছেন শিক্ষকরা।

প্রশ্নপত্রের সব প্যাকেট থাকছে সিকিউরিটি টেপে মোড়ানো। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে সবার মোবাইল ফোন বা যেকোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ছবি তোলা যায় এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়া এর আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ছিল। এজন্য এখন বিজি প্রেসে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এখানেও কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারছেন না। সব মিলিয়েই প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবং মেধা সংরক্ষণ করতে সকল কৌশল অবলম্বন করছে সরকার। পরীক্ষা চলাকালীন যেকোন ধরণের অস্বাভাবিক লেনদেন মনিটরিং করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নানা পদক্ষেপ আর সবার সহযোগিতায় প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হয়েছে। এটি অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চায় সরকার।