বিএনপির অযৌক্তিক সাত দফা

 

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় সংসদ বাতিল করাসহ অযৌক্তিক ৭ দফা  দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় এ দাবি জানান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই অযৌক্তিক দফাগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধও করেন ।

সমাবেশে উত্থাপিত দফাগুলো হলো:

খালেদা জিয়ার মুক্তিজিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এমন একজন আসামীর মুক্তি চাওয়া অযৌক্তিক দাবি ছাড়া আর কিছু না।

জাতীয় সংসদ বাতিল করা: নির্দিষ্ট সময়ের আগে সংসদ বাতিল করা সংবিধান পরিপন্থি। তাই তাদের এই দফাটিও অযৌক্তিক।

সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করাসংবিধানের বিধান অনুসারে, বিদ্যমান সরকার ক্ষমতায় থাকতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে গেলেও সরকারের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না’। সরকারের পদত্যাগ করার বিষয়টিও বিএনপির অযৌক্তিক দাবি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোট কেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগসংবিধান অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতা শুধু নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। দেশে জরুরি অবস্থা বিরাজ করলে শুধু তখনই সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তাই বিএনপির এ দাবিটিও অযৌক্তিক।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা: সহজে এবং দ্রুত সময়ে ভোট গণনার কাজ সম্পন্ন করা যায় বলে সারা বিশ্বে ইভিএম জনপ্রিয় হচ্ছে। সিটি নির্বাচন সহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে এর সুফল পাওয়া গেছে। ইভিএম ব্যবহার করলে ভোট কারচুপি করা যায় না, একজন ব্যক্তি একটি ভোট প্রদান করতে পারে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।

নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং তাদের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ না করাসদ্য হয়ে যাওয়া সিটি নির্বাচনগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিল। গত জাতীয় নির্বাচনেও ১৭৬ জনের অধিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক স্বাধীনভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সরকার পক্ষ থেকে এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ওপর কোন প্রকার বিধি নিষেধ আরোপের খবর পাওয়া যায়নি। তাই তদের এই দাবিটিও অযৌক্তিক।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তিসাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: আইন সবার জন্যই সমান। অপরাধ করলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে- সে সরকার দলীয় লোক বা বিরোধী দলীয় লোক হোক না কোনো। বিরোধী দলীয় নেতা বলে তাকে মামলা দেওয়া যাবেনা, মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এটিও অযৌক্তিক।

তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স্থগিত ও নতুন মামলা না দেওয়াকেউ দেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করবে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না- তা কোনো সভ্য দেশে চলতে পারেনা।

পুরোনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করাযদি কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতে পারে।

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের এবং সাংবাদিকদের আন্দোলন ও মত প্রকাশের কারণে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেওয়াকোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনকে যারা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল তাদের ছাড়া বাকিদের আদালত মুক্তি দিয়েছে। নৈরাজ্যকারীদের মুক্তি দেয়ার দাবি অযৌক্তিক।

দেউলিয়া রাজনৈতিক দল বিএনপির এমন অবাস্তবঅযৌক্তিকদাবি রাজনীতির অঙ্গনে হাসিতামাশার সৃষ্টি করেছে