সমাবেশে কর্মীদের ভাড়া ও আপ্যায়নের দায়িত্ব নিয়ে বিবাদে জড়ালেন মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদ

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। মূলত অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধান করা অর্থাৎ আর্থিক বিষয়টি দেখভাল নিয়ে কোন্দলে জড়িয়েছেন মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদ।

সূত্র বলছে, বিগত সমাবেশে মির্জা আব্বাস সমাবেশে আগত নেতা-কর্মীদের যাতায়াত ভাড়া প্রদান, আপ্যায়ন করানো বিষয়গুলো দেখভাল করে লাখ লাখ টাকা দুর্নীতি করে ইনকাম করায় এবার নিজ পকেট ভারি করতেই রিজভী আহমেদ ঝামেলা পাকিয়েছেন। মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদের দুর্নীতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের দুজনকেই এই আয়োজন থেকে দূরে থাকার আদেশ দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এদিকে মির্জা ফখরুলের এমন নির্দেশনায় দুঃখ পেয়ে সমাবেশে নীরব ভূমিকা পালন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদ বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নয়াপল্টন বিএনপির পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর ২২টি শর্ত মেনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সমাবেশ সফল করার বিষয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর পল্টন পার্টি অফিসে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, রিজভী আহমেদের মত সিনিয়র নেতারা। এসময় মির্জা ফখরুল সমাবেশ সফল করতে নেতাদের মতামত জানতে চান। নেতারা একে একে বিভিন্ন কৌশল বাতলে দিয়ে সমাবেশ সফল করার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। এর মধ্যে মওদুদ আহমদ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা এবং রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিএনপির মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা, পথে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে মারধর করার মত আক্রমণাত্মক বিষয়ে কাজ করার জন্য মত দেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল তার মতামতকে ছেলেমানুষী বলে অবহেলা করে এড়িয়ে যান। এর পর পরই মির্জা আব্বাস সমাবেশস্থলে নেতা-কর্মীদের যাতায়াত ভাড়া মেটানো, আপ্যায়ন করার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে মতামত প্রদান করলে রিজভী আহমেদ সাথে সাথে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি বিগত সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ভাড়া ও আপ্যায়ন বাবদ লাখ লাখ টাকা দুর্নীতি করে পকেট ভরার জন্য মির্জা আব্বাসকে চোর বলেও গালি দেন রিজভী আহমেদ। দলের করুণ অবস্থাতেও দুর্নীতির চিন্তায় মগ্ন থাকায় তাকে লোভী এবং স্বার্থপর বলে মিটিংয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন রিজভী আহমেদ। তাই মির্জা আব্বাসকে বাদ দিয়ে এবার সমাবেশে নেতা-কর্মীদের যাতায়াত ভাড়া মেটানো এবং আপ্যায়নের বিষয়টি তার হাতে ন্যস্ত করার জন্য আকুল আবেদন করেন রিজভী আহমেদ। এছাড়া তার সাথে নেতা-কর্মীদের সম্পর্ক ভালো বলে অল্প টাকায় তাদের চাহিদা মেটানোর বিষয়টিও মিথ্যা যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেন রিজভী আহমেদ। মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদের অর্থ আত্মসাৎ ও চুরির পরিকল্পনা বুঝতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মির্জা আব্বাস। খালেদা জিয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে, দলের চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য এমন বিষয়ে তর্কে জড়িয়ে যাওয়ার জন্য মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদকে চরমভাবে অপমানিত করেন মির্জা ফখরুল। দলকে না ভালবেসে নিজ পকেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার জন্য এবং টাকার কাছে ইমান বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তাদেরকে চোর ও ক্ষুধার্ত বেইমান বলেও গালি দেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর সমাবেশে আর্থিক বিষয়গুলো নিজেই কন্ট্রোল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন মির্জা ফখরুল। এদিকে মির্জা ফখরুল আর্থিক বিষয়গুলো নিজেই দেখভাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মন ভেঙ্গে যায় মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদের। অতি চালাকি করতে গিয়ে আম-ছালা দুটোই হারানোই হতাশ হয়েছেন তারা।