মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশ

কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় জনসমাবেশ করার কথা ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর, পরবর্তীতে তারিখ পরিবর্তন হয়ে সমাবেশের তারিখ নির্ধারিত হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। বলা বাহুল্য সে তারিখও পরিবর্তিত হয়ে সমাবেশের তারিখ নির্ধারিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। আজ বেলা একটা থেকে বিএনপির সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সমাবেশের কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন রকম গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তারিখ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বিএনপি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক দলীয় সূত্র জানায়, সমাবেশ নিয়ে ত্রিমুখী সমস্যায় পড়েছিল দলটি। জানা যায় প্রথম দফায় জনসমাবেশ করার জন্য আয়োজিত বৈঠকে জামায়াতকে ছাড়াই শুধু জাতীয় ঐক্যের নেতাদের নিয়ে জনসমাবেশ করতে চেয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে তারেকের নির্দেশে জামায়াত নেতা কর্মীদের সাথে নিয়েই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অন্যদিকে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী হওয়ার কারণে তাদের সাথে এক মঞ্চে সমাবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যরে নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েক দফা জাতীয় ঐক্যের নেতাদের সাথে আলোচনা করেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে ২য় দফায়ও তারিখ পরিবর্তন করা হয়। সবশেষে বিএনপি নীতিগত ভাবে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের বাদ দিয়েই স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের দল বলে পরিচিত জামায়াতকে নিয়েই জনসমাবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিএনপি।

জনসমাবেশে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পর থেকেই জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাদের তৃণমূল কর্মীদের সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জনসমাবেশে অংশগ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে বিএনপি সহ দেশবাসীকে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী নিয়ে বিএনপির সমাবেশে যোগদানের পরিকল্পনা করছে রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত জামায়াত।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত জামায়াতের সাথে সমাবেশের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যের একাধিক নেতা। ফলশ্রুতিতে পাল্টা কর্মসূচি হিসাবে একই দিনে জাতীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে মাহি বি চৌধুরীর প্ল্যান বি নিয়ে আলাদা সমাবেশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা বনানীতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।