তারেক ও বিএনপিকে বাদ দিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় নতুন করে ষড়যন্ত্র

 

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিএনপি-জামায়াতের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে এবং বিতর্ক এড়াতে বিএনপিকে বাদ দিতে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির একাংশ এবং দলের অঙ্গসংগঠনগুলো রীতিমতো ‘বিদ্রোহ ঘোষণা’ করেছে।

মাহী বি. চৌধুরীর বক্তব্য হলো, বিএনপি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে মদদদাতা, বিএনপির দেশি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা শুন্যের কোটায় থাকায় এবং কয়েকটি দূতাবাসের চাপে বাধ্য হয়েই মাহী বি. চৌধুরী বিএনপিকে বাদ দিতেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তার মতে, বিএনপি থাকলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালাও-পোড়াও করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করবে এবং যেকোন মূল্যে নির্বাচন বর্জন করার চেষ্টা করবে, যেটি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংবিধান পরিপন্থী। কারণ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা শেখ হাসিনা সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। তারেকের অশুভ ছায়া এই রাজনৈতিক জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিএনপি ও তারেক রহমানকে এই প্রক্রিয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জন্য বি. চৌধুরী ও ড. কামালের কাছে চিঠিও লিখেছেন মাহী বি. চৌধুরী।

সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ক একটি জরুরী সভায় ২৫ সেপ্টেম্বর মাহী বি. চৌধুরীর বাসায় মিলিত হন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। সভায় সরকারকে বুঝিয়ে নির্বাচনে তাদের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আশীর্বাদ পাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে অনুরোধ করে কে কোন মন্ত্রণালয় নিবে সেটি নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মাহী বি. চৌধুরী বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু করতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। একপর্যায়ে বিএনপি ও তারেক রহমানকে মাইনাস করেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে মন্তব্য করেন মাহী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রে জানা যায়, মাহী বি. চৌধুরী অবজ্ঞার সুরে তারেক ও বিএনপির বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপিকে বিলুপ্তপ্রায় দল হিসেব উল্লেখ করে তারেক রহমানকে খাম্বা চোর এবং দুর্নীতির বরপুত্র বলে আখ্যায়িত করেন মাহী।

মাহী বলেন, বিএনপি আজ বেঁচে অাছে শুধু মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদের কারণে। ক্ষমতা পেয়ে যে তারেক আকাশ-পাতাল এক করেছিলেন, সেই তারেক আজ ক্ষমতায় আসার জন্য আমার বাবা ও ড. কামালের পা ধরতেও লজ্জা পাবেন না। আমরা তারেক রহমান ও বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চাই না। আমরা এরশাদের মতো অন্যের হাতের খেলনা হতে চাই না। এরশাদকে টাকা দিলেই কেনা যায়। ড. কামাল ও বি. চৌধুরী বিক্রি হন না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করিয়ে দুর্নীতির দায়ভার নিবে না জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। সুতরাং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে এবং সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি ও তারেক রহমানকে বর্জন করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের সঙ্গী হওয়ার চেয়ে সরকারের উন্নয়ন সাথী হওয়া ভাল।