কৃষিঋণ বিতরণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। তবে কৃষি নির্ভর এ অর্থনীতির দেশে কৃষক অর্থ কষ্টে ভোগে। কৃষক অর্থের অভাবে উৎপাদন করতে পারে না। কৃষকের দারিদ্র্যতা ও মূলধন স্বল্পতার জন্য কৃষিঋণের প্রয়োজন পড়ে। অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্রের ন্যায় কৃষিক্ষেত্রেও উৎপাদন কার্য পরিচালনার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই সরকার সহজ শর্তে কৃষককে ঋণ বিতরণ করে আসছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ঋণ বিতরণের পরিমাণ।

নতুন অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৩ শতাংশ। এ মাসে ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

চলতি মাসে ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বিতরণ করেছে ১৪৫ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো আগস্ট মাসে বিতরণ করেছে ৭৯৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশী ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের ৬৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬.৮৬ শতাংশ বেশি। কৃষি ও পল্লীঋণ এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক সমূহের জন্য ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য ১১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেক্ষেত্রে ২১ হাজার ৩৯৩.৫৫ কোটি টাকা বিতরণে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৫ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সে বছরে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু বিতরণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। মোট ৩৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০৮ জনকে ওই ঋণ দেওয়া হয়। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে।