আন্দোলনের ডাক দিলেও মওদুদ আহমেদের কথায় ভরসা পাচ্ছে না তৃণমূল বিএনপি

 

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার মেয়াদ সাত মাস পার হলেও জামিনে মুক্ত করার ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারছেন না তার পক্ষের আইনজীবীরা। যার কারণে খালেদা জিয়া মওদুদ আহমেদকে তার মামলার আইনি সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত মওদুদ আহমেদের ওপর আস্থা না থাকার কারণেই তাকে খালেদা জিয়ার মামলার আইনি সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা কর্মীরা।

এমতাবস্থায়, ‘সরকার পতনের আন্দোলন’র জন্য পহেলা অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তবে তার ডাকা এ আহ্বানে সাড়া দেবার মতো সাহস পাচ্ছেন না তৃণমূল বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, মওদুদ আহমেদ দুই নৌকায় পা রাখার মতো নেতা। তিনি একবার জাতীয় পার্টির,  একবার আওয়ামী লীগের এবং অন্যদিকে  আবার বিএনপিরও গুনগান করেন। আমরা সব সময় মওদুদ আহমেদকে নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে থাকি। তিনি কি আসলেই বিএনপির সঙ্গে আছেন। নাকি বিএনপির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন, বোঝা যায় না।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, মওদুদ আহমেদ অসংখ্য বার দল পাল্টিয়েছেন। তার ডাকে সাড়া দেয়া, আর কচু গাছে ফাঁসি দেয়া, সমান কথা। এমনিতেই বিএনপি বিপদগ্রস্থ অবস্থায় রয়েছে। আন্দোলন করে সংগঠিত হওয়া সহজ কথা নয়। শুধু অবুঝের মতো মুখে বললেই আন্দোলন হয়ে যায় না। আন্দোলন করতে হলে প্রথমে দলকে সুসংগঠিত করা প্রয়োজন। যেখানে বিএনপি সমন্বহীনতায় ভুগছে। সেখানে পহেলা অক্টোবর সরকার পতনের আন্দোলন কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।

বিএনপির আন্দোলনের ডাককে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি আন্দোলন করতে ভুলে গেছে। আন্দোলন কিভাবে করতে হয় তারা ভুলে গেছে। ঈদের পর কঠোর আন্দোলন বিএনপি একাধিক বার করেছে। আন্দোলনে খুব বেশি লোকই সমবেত  হয়নি। সাধারণ মানুষ বিএনপির এমন অদ্ভূত আন্দোলনকে সর্বদা বয়কট করে।

যেখানে বিএনপির অস্তিত্ব সংকটে সেখানে বড় আন্দোলন সম্ভব নয়। এ মুহূর্তে বিএনপিকে প্রথমে সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলন না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।