আমি সেই ওয়াদা করিনা, যে ওয়াদা রাখতে পারবো না,আমি সেই ওয়াদা করি, যে ওয়াদা রাখতে পারি ওবায়দুল কাদের 

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
আমি সেই ওয়াদা করিনা, যে ওয়াদা রাখতে পারবো না। আমি সেই ওয়াদা করি, যে ওয়াদা রক্ষা করতে পারি। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন।
ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হাজ্বি সফি উল্যার সভাপতিত্বে অনষ্ঠিত জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার এলাকার মহিলারা শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। উন্নয়নের পক্ষে আছে। জনসভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আপনাদের যে সম্মান দিয়েছেন তার তুলনা হয়না। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগে সন্তানের পরিচয় শুধু বাবার পরিচয়ে ছিল। এখন সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নামও থাকতে হবে। মনে রাখবেন টাকা পয়সা আর ক্ষমতা বড় নয়। সম্মানটাই হল বড়। জনসভায় উপস্থিত নারী পুরুষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এখন বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, আপনাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন, শতভাগ বিদ্যুত পেয়েছেন। যা আগে কখনো চিন্তাও করতে পারেননি। বিদ্যুতের বিষয়ে বলতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আমলে নামাজের সময়, ইফতারের সময়, সেহরীর সময় লোড শেডিং হত। এখন আর তা নেই। এ সুবিধা শেখ হাসিনাই দিয়েছেন। অন্য কারো পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব হবেনা। ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা নৌকায় ভোট দিন, তাহলে আগামীতে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে সারা দেশে যে সম্মান পাচ্ছি তা আমার একার নয়। এ সম্মান আপনাদের সকলের। আপনারাই আমাকে নির্বাচিত করে এ সম্মান পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন বিধায় আমি এ এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পেরেছি। কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাটে এমন কোন স্কুল নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সকল রাস্তাঘাট পাকা করেছি। আগামীতে ক্ষমতায় এলে আমার এলাকার মেইন রোডও হবে চার লেনের।
তরুন প্রজম্মের খেলাধুলার সুবিধার জন্য কোম্পানীগঞ্জে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের কাজও অতিসত্ত¡র শুরু হবে বলে ওবায়দুল কাদের জনসভায় ঘোষনা দেন। জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার জনতার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আপনাদের কি দিয়েছে? বিএনপির এমন একটা কাজ দেখান, যে কাজের জন্য আপনারা বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদকে ভোট দিবেন। উল্লেখ করার মত এমন কোন কাজ কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাটে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মওদুদ আহমদের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মওদুদ আহমেদ গণতন্ত্রের জন্য কাঁদেন। অথচ তিনি যখন ভোট করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয়না। এমনকি উনাকে ভোট না দিলে রাস্তার ইট তুলে নিবেন বলেও জনগণকে হুমকী দিয়েছিলেন।
এখন তিনি মাঝে মাঝে এলাকায় এসে নিজেই নিজেকে অবরুদ্ধ করে অবরুদ্ধের নাটক সাজান। এ নাটক করতে গিয়ে তিনি অযথা বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে কষ্ট দেন। মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মওদুদ সাহেব আপনি ২২ বছর রাজত্ব করেছেন, এখন আর আপনার সেই জৌলুস নেই। আপনার সময় শেষ।
বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকদিন পরপরই বিএনপি বলে সর্বাত্ম আন্দোলন হবে, আর মওদুদ আহমেদ বলেন, এক মাসের মধ্যে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মওদুদ সাহেব ২০০১ সাল বাংলাদেশে আর ফিরে আসবেনা। এ সময় ওবায়দুল কাদের ২০০১ পরবর্তী বিএনপির অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি শুধু আন্দোলনের ভয় দেখায়। এভাবে ১০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু বিএনপির আন্দোলন দেখা যায়নি। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা জানেনা যে, বিএনপির আন্দোলন কারাগারে খালেদা জিয়ার ব্যানেটি ব্যাগের মধ্যেই রয়ে গেছে।
ওবায়দুল কাদের ছন্দে ছন্দে বলেন, দেখতে দেখতে ১০ বছর আন্দোলন হবে কোন বছর। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া এতো মন্ত্রী বানালো, এতো এমপি বানালো কিন্তু তিনি কারাগারে যাওয়ার পরও কেউ আন্দোলনে এগিয়ে আসলোনা। তারা এসি রুমের মধ্যে বসে বসে হিন্দি সিরায়াল দেখছে আর কর্মীদেরকে মাঠে নামার জন্য বলছে। তারা কি জানেনা যে, নেতারা মাঠে না নামলে কর্মীরাও মাঠে নামবেনা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন হল মরা গাঙ্গে জোয়ারের মত। কখনো তা আসবেনা। এ সময় তিনি তাঁর ক্ষমতার আমলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মওদুদ আহমেদ তাঁর ক্ষমতার ২২ বছরে ২২ হাজার মিথ্যা কথা বলেছেন এবং ২২ হাজার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর প্রতিশ্রæতির একটিও পূরণ করেননি।
জনসভায় আগত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা অপকর্ম করবে তাদের সাথে আমি নেই। তিনি বলেন, উন্নয়ন আমি করবো। আপনারা শুধু মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। আমার সঙ্গে থেকে আমার নামে অপকর্ম করলে আমি কাউকে ক্ষমা করবোনা।
এর আগে ওবায়দুল কাদের ৭টি স্কুলের নতুন ভবনের উদ্বোধন ও প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরাদ্ধ পাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনসহ এলজিইডি কৃর্তৃক বাস্তাবায়িত পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষনাবেক্ষন কর্মসূচী-২এর আওতায় নারী কর্মীদের মাঝে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বিতরণ করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মো: সাহাব উদ্দিন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, জেলা আ’লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও সাধারণ সম্পাদক নূর নবী চৌধুরী প্রমুখ।