সততার চর্চায় প্রাথমিক বিদ্যালয়- মিজানুর রহমান বাদল

সততা বর্তমান সরকারের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের একটি হল সততা,বাক্যে, কর্মে ও চিন্তায় সৎথাকার গুনকে সততা বলা হয়।সততা মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ গুন,সততা ও বিশ্বস্ততা মানুষকে উন্নত, আদর্শ ও নৈতিকতায় ভূষিত করে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবনের পূর্ণতা পায়।
সততার আলোয় উদ্ভাসিত মানুষ কোন অন্যায় বা অপরাধ করতে পারেনা,আর তাই সমাজ থেকে অন্যায়কে বিদূরিত করে সাম্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সৎ মানুষের বিকল্প নেই।
অতি সম্প্রতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সততা স্টোর চালু করার প্রক্রিয়াটি বর্তমান শিক্ষা বান্দব সরকারের জন্য একটি চমৎকার মাইল ফলক।কেননা প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার একটি সহজ ও সুন্দর উপায় হতে পারে সততা স্টোর।
সততা স্টোর বলতে এমন একটি স্টোরকে বুজায় যেখানে পন্য কেনা ও মূল্য পরিশোধের নিয়মাবলী নিয়ে দুটি তালিকা রয়েছে কিন্তুু কোন বিক্রেতা নেই। কোন কিছু কিনতে হলে শিক্ষার্থী স্টোরে থাকা সংশ্লিষ্ট খাতায় পন্যের বিবরন লিখতে হবে। এরপর পাশেই রয়েছে টাকা জমা দেওয়ার বাক্স। অর্থাৎ যে কোন শিক্ষার্থী তার পছন্দমতো পন্যটি কিনে বাক্সে টাকা জমা রাখবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত এসব সততা স্টোর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরস্পর সৎ হওয়ার প্রতিযোগিতা করছে।কোমলমতি শিশুদের সততা চর্চা করার জন্য বর্তমান সময়ে এই স্টোর একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
সততা স্টোর থেকে যে সব শিক্ষার্থী পন্য কিনছে, তারা পন্য কেনার পাশাপাশি তাদের দিতে হচ্ছে সততা এবং বিবেকের পরিক্ষা।
যে কেউ চাইলে এখান থেকে মূল্য পরিশোধ না করে চুপিচুপি পন্য নিয়ে চলে যেতে পারবে।কিন্তুু তারা সেটা করছে না।
কারন তাদের কচিমনে ইতিমধ্যে লালন হয়েছে এটি একটি সততা চর্চাকেন্দ্র।আর একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে সততার পরিক্ষায় ছোটরা হারতে চায় না,জিততে চায়”আমরা জানি একটি সৎ, সমৃদ্ধ এবং দুর্নীতি মুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে তৈরি করতে হবে।
আর এ সততার চর্চা শুরু হবে পরিবার থেকে এবং বিদ্যালয়ে এটির চর্চাও অত্যাবশ্যকীয়। আর এ ভূমিকায় থাকবে শিক্ষাঙ্গন। এ কোমলমতি শিশুদের যদি সততা,নৈতিকতা ও মানবিকতার অভ্যাসে গড়ে তোলা যায় তাহলে আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি বলে আর কোন কিছুর অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যাবেনা।
বস্তুুত্ব সততা স্টোর সততা চর্চার একটি প্লাটফর্ম।
এট একটি প্রতিক। নতুন প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং অল্প বয়স থেকে দুর্নীতি বিরোধী নৈতিকতায় উদ্বুদ করার মহান উদ্যোগ এবং সৎ মানুষ তৈরি করার মিশন ও বটে।
সততা স্টোরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো বিবেক জাগ্রত করার শিক্ষা,সৎ ভাবে চলার অনুশীলন কেন্দ্র। দৃশ্যত এখানে কোন বিক্রেতা নেই। এই দোকানের প্রকৃত বিক্রেতা হলো বিবেক,নৈতিকতা,চরিত্র ও মনুষ্যত্ব এবং সধোপরি সত্যিকারের মানুষ হওয়ার সিঁড়িতে আরোহন।
বিশ্বের নিম্ম মধ্যম আয়ের দেশ গুলোর একটি প্রিয় বাংলাদেশ।একটা সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে তালিকায় উপরের দিকে থাকলেও কিন্তুু বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার পূর্বেকার অবস্থান থেকে বের হয়ে এসে বাংলাদেশকে একটি সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি শুদ্ধাচার কৌশল চর্চাও হচ্ছে,আগামীর প্রজন্মকে সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।
আর এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার একটি সহজ ও সুন্দর উপায় হচ্ছে সততা স্টোর।
এই সততা স্টোর থেকে সততার আলো ধীরে ধীরে ছডাবে সমাজের সবখানে।এভাবেই দুর্নীতিহীন, সৎ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
কোমলমতী শিশুদের মধ্যে সততার আলো ছড়িয়ে দিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং কোম্পানীগঞ্জের প্রায় ৯০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে সততা স্টোরের উদ্ভোধন করি। আমার এ কাজে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দ।

লেখক- মিজানুর রহমান বাদল                             চেয়ারম্যান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।