জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় মির্জা ফখরুলকে গালি দিলেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে সরকার পতন আন্দোলনের ফাঁকা বুলির আড়ালেও একটিবারের জন্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় তারেক রহমানের রোষানলে পড়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সূত্র বলছে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের প্রলোভনে পড়ে মির্জা ফখরুল এমন মন্তব্য করেছেন বলে তারেক রহমানের বিশ্বাস। বিএনপিকে দুর্বল করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় সওয়ার হয়ে নির্বাচনী জয়ী হওয়ার মির্জা ফখরুলের দিবাস্বপ্নকে স্রেফ পাগলামি ও গোলামী বলে আখ্যায়িত করেছেন তারেক রহমান। এতবড় নাগরিক সমাবেশে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করাটাকে দুঃসাহস ও দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ বলে দাবি করে মির্জা ফখরুলকে ভবিষ্যতে সতর্ক ও মুখ সামলে কথা বলার জন্য হুকুম দিয়েছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলীয় শক্তি হারিয়ে এলোমেলো বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন, সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী খুঁজছিল। সরকারকে উচিত শিক্ষা দিতে বিএনপি উপযুক্ত শক্তির সহায়তায় দিনানিপাত করছিল। তারেক রহমানের একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় বিএনপি। সর্বশেষ দুর্নীতির দায়ে আটক বিএনপি নেত্রীকে আন্দোলন করে মুক্ত করতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে হতাশার সাগরে ভাসছিল বিএনপি। এসময় হঠাৎ করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে আশার আলো দেখতে পায় বিএনপি। ঐক্য প্রক্রিয়ার ধূর্ত ও রাজনীতিতে পটু নেতাদের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে বিএনপিকে উপকৃত করার জন্য মির্জা ফখরুলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তারেক।

তারেকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দেওয়ার পালা আসলে তিনি অতি উৎসাহী হয়ে শব্দবাণে সরকার পতনের কাল্পনিক গল্প বলতে থাকেন। আশ্চর্য্যের বিষয় হল তিনি বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম একটি বারের জন্যও উচ্চারণ করেননি মির্জা ফখরুল। ফখরুলের এমন বুদ্ধিহীনতার জন্য হতবাক হয় খোদ দলটির সাবেক নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ উপস্থিত নেতারা।

এদিকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য শুনে তারেক রহমানকে সাথে সাথে ফোন করেন রিজভী আহমেদ। মির্জা ফখরুলের এমন দুঃসাহস ও নীতিবিবর্জিত কাজের জন্য তারেকের কাছে অভিযোগ করেন রিজভী।

সূত্র বলছে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুলকে ফোন করে তার বালখিল্যতা ও দলীয় সংবিধান পরিপন্থি বক্তব্য দিয়ে বিএনপিকে বিভক্ত ও বিতর্কিত করার জন্য গালমন্দ করেন তারেক। বয়স হয়ে গেলেও রাজনৈতিক জ্ঞান না হওয়ার জন্য মির্জা ফখরুলকে তিরষ্কার করেন তারেক। তারেকের মতে, মির্জা ফখরুল রং বদলাচ্ছেন। বিএনপির ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি সংসদে ফিরে যাওয়ার জন্যই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে হাত মিলিয়েছেন ফখরুল। জিয়াউর রহমান কি এতটাই অযোগ্য যে তার নাম নেওয়া যাবে না। তাই তার প্রতি বিএনপির অবদান ভুলে গিয়ে এমন ভয়ংকর অপরাধ করেছেন তিনি। মির্জা ফখরুলের এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এর পরও দলের ভঙ্গুর দশা বিবেচনা করে শেষবারের মতো তাকে মাফ করে দেন তারেক। পরবর্তীতে এমন ভুল করলে মির্জা ফখরুলকে অযোগ্য ঘোষণা করবেন বলেও হুমকি দেন তারেক রহমান।