খালেদা-তারেককে মাইনাস করে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছেন মির্জা ফখরুল গংরা

নিউজ ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নব্য সংস্কারপন্থিরা পুনরায় কারাবন্দি খালেদা জিয়া ও লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছেন মির্জা ফখরুল, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মত সিনিয়র নেতারা। খালেদা জিয়ার দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় সহসাই তার মুক্তির কোন সুযোগ নেই। এছাড়া দুর্নীতি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপরাধের দায় নিয়ে বিদেশে পলাতক জীবন যাপন করছেন তারেক রহমান। সুতরাং এই দুই নেতা এখন বিএনপির জন্য বোঝা। তাদের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করাকে শুধু শুধু সময় নষ্ট ভেবে তাই ঐক্য প্র্রক্রিয়ার নেতাদের হাত ধরেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান মির্জা ফখরুলরা। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে নব্য সংস্কারপন্থিদের উপর ক্ষেপেছেন খালেদা ও তারেকপন্থি নেতা রিজভী আহমেদরা।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা সম্ভব নয় জেনে তাদের দুজনকে মাইনাস করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর কোন রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গোপন পাঁয়তারা করছিলেন মির্জা ফখরুল গংরা। দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকায় দেশে-বিদেশে কোন দাম পান না তারা। মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারলে রাজনীতি করাটা বৃথা। এছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য উপযুক্ত নন। তারা গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। খালেদা ও তারেক রহমানের কথায় অাস্থা রেখে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে ভুল করেছে, দলটির জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে মারাত্মক ভুল ছিল এটি। রাজনৈতিক দলকে জনগণের সেবা করতে হলে অবশ্যই সংসদে অবস্থান করতে হবে। সুতরাং বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সংসদে ফিরতে হবেই। তবে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বক্তব্য হলো, তাদের দাবি না মেনে নিলে নির্বাচন বর্জন করতে হবে। কিন্তু দলের সিনিয়র নেতা যারা সংস্কারপন্থি এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিশেষ করে মির্জা ফখরুল গংরা তাই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বাদ দিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে একদল সিনিয়র নেতারা ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের সাথে অাঁতাত করে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মির্জা ফখরুলদের মতে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির যে ক্ষতি করেছেন তা অপূরণীয়। তারা দলটিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। তাদের অযৌক্তিক ও অহেতুক সিদ্ধান্তে বিএনপির জনপ্রিয়তা তলানীতে ঠেকেছে। তবে মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, সংস্কারপন্থিদের নামে যারা একত্রিত হয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন, তারা মূলত সরকারের একটি অংশের সাথে যোগাযোগ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তো দোষের কিছু না। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখতে মির্জা ফখরুলদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে কোরবানি দিতে রাজি হয়েছেন মির্জা ফখরুলরা। জানা গেছে, বিএনপিকে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ থেকে বের করে আনতে মূলত পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে এবং আর্থিক সহায়তায় খালেদা জিয়া তারেক রহমানকে মাইনাস করার মত কোরবানি দিতে রাজি হয়েছেন মির্জা ফখরুলরা।