সত্যিই কি চিকিৎসার জন্য দেশ ছেড়েছেন এস কে সিনহা?

নতুন মিথ্যা ঘটনার মাধ্যমে আবার সংবাদ মাধ্যমে ফিরে এলেন এস. কে. সিনহা। এবারও ফিরেছেন সরকার বিরোধী মিথ্যাচারের উপর ভর করে। তিনি সরকারের ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করেছেন তার সদ্য প্রকাশিত বইয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি দেশের বাহিরে আছেন। কিন্তু তার এই বই প্রকাশ করতে তাকে সাহায্য করেছে দেশের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যরা। আর এই বইয়ের হাত ধরেই তিনিই সাজিয়েছেন তার সরকার বিরোধী অহেতুক মিথ্যাচার।

এস. কে. সিনহা বিচারপতি থাকাকালীন অসুস্থতা জনিত কারণে কিছু দিনের জন্য দেশের বাহিরে যান এবং নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়েই তিনি যান। ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বিদেশের মাটিতে বসেই তিনি সরকার বিরোধী নানা রকম বুদ্ধি আটতে থাকেন। এরপর সরকারের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে বসে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন। অপরদিকে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, তিনি অসুস্থ নন। অথচ ছুটির আবেদনে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করেছেন। একজন প্রধান বিচারপতি হয়েও তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন! সারাজীবন মানুষকে ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’ পড়িয়ে সে মানুষটাই দুর্নীতির দায় ঢাকতে মিথ্যা বলে বিদেশে পাড়ি জমালেন!

তার প্রকাশিত বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে সরকারের দিক নির্দেশনায় তিনি পদত্যাগ করেছেন কিন্তু তিনি অসুস্থ ছিলেন না। অপরদিকে তিনি যে দীর্ঘদিন ক্যান্সার জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন এর সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার ও সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে তিনি এই দুই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়ে একই হাসপাতালে তিনি গিয়েছেন। তিনি যে সব ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে:

* অনকোলজি

* এন্ডোক্রিনোলজি

* কলোরেক্টাল

* নিউরোলজি

* সাইকিয়াট্রিস্ট

* ডার্মাটোলজি

* ডিয়েটেশিয়ান

* ফিজিওথেরাপি

 

ক্যান্সার বা অনকোলজির জন্য তিনি ডক্টর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর তো হ্যান চং এর শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ ও ১৮ জুন, ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ও ১৬ জুন, ২০১৭ সালের ২০ ও ২১ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল এই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এন্ডোক্রিনোলজি স্পেশালিস্ট ড. থাম কোয়াং ওই এর নিকট তিনি ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ফলোআপে ছিলেন।

কলোরেক্টাল চিকিৎসার জন্য তিনি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থাং চুঙ লিয়ং এর কাছে ২০১০ থেকে ২০১৩ এই তিন বছর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন।

এস. কে. সিনহা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার জন্য তাকে নিউরো সার্জনের নিকটও শরণাপন্ন হতে হয়েছে। এর জন্য তিনি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ পাভানী রাত্নাগোপালের কাছে ২০১৬ সালের ২২ও ২৪ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন।

সাইকিয়াট্রিস্ট এর জন্য তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের ডঃ গুড়ি অলকানন্দার নিকট ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল ও ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল তিনি শরণাপন্ন হয়েছেন।

 

তিনি তার স্কিন কেয়ার এর জন্য ডার্মাটোলজির চিকিৎসক ডঃ লি হাওর ইউএর কাছে গিয়েছেন ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল। দীর্ঘ দিন যাবত তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাকে মেনে চলতে হতো সঠিক খাদ্য তালিকা। এর জন্য তিনি ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল ডায়েটেশিয়ানের শরণাপন্ন হয়েছেন। ফিজিওথেরাপিস্টের কাছেও গিয়েছেন তিনি ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল।

এতো সব ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার প্রধান কারণ হলো তিনি দীর্ঘদিন যাবত কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। সেই সাথে ছিল উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। যেহেতু ডায়াবেটিস মানুষের শরীরে নীরব ঘাতকের মতো আক্রান্ত করে সেজন্য ক্যান্সার সহ নানাবিধ সমস্যায় তিনি জর্জরিত ছিলেন। এবং এর জন্যই তাকে দেশি বিদেশি চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত চেকআপে যেতে হতো। আর এর সুযোগ নিয়ে তিনি সরকারের নামে মিথ্যাচার শুরু করেছেন। এমনকি জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি তার বইয়ের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়ে অবসরে এসবই করছেন এস. কে. সিনহা।