যুক্তরাষ্ট্র নাকি অস্ট্রেলিয়া! কোথায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছেন এস কে সিনহা?

নিউজ ডেস্ক:জুডিশিয়াল ক্যূ করে তৃতীয়পক্ষকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে সাহায্য করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় বিদেশের মাটিতে বসে নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক একটি সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য ও ভুল তথ্যে ভরা বই প্রকাশ করে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বইতে তিনি মিথ্যা ও ভুলে ভরা তথ্য উপস্থাপন করে মূলত তার উপর সরকারের কথিত অত্যাচারের কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার জন্যই এস কে সিনহার এই ফন্দি। দুর্নীতির মাধ্যমে আয়করা অর্থ বিদেশের মাটিতে নিরাপদে বিনিয়োগ করা এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে বিলাসবহুল দেশে বাকি জীবন আনন্দে পার করাই এস কে সিনহার মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র বলছে, বিচারপতি থাকাকালীন অবৈধ উপায়ে অর্জন করা সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অথবা অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করার সকল প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন এস কে সিনহা। বিএনপি-জামায়াতের একটি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও মূলত পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন সিনহা।

সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনায় বিএনপি-জামায়াত এবং তৃতীয়শক্তির আশ্বাসে বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন এস কে সিনহা। রাষ্ট্র ও সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরতেই এস কে সিনহা একের পর এক মনগড়া রায় দিতে থাকেন। মূলত, একটি শক্তির হাতের পুতুল হয়ে অনৈতিক বাসনা পূরণের জন্য এস কে সিনহা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধগুলো করতে থাকেন। এসব করে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক-ব্যালেন্স বানান সিনহা। সেই টাকা তিনি দেশের মাটিতে রাখা নিরাপদ না ভেবে বিদেশে পাচার করে বিনিয়োগের চিন্তা করেন। এদিকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন পুড়ে যাওয়ায় তিনি চিকিৎসার নামে বিদেশে গিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক তথ্য তুলে ধরে বই ছাপিয়ে নিজের ওপর সাজানো অত্যাচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতেই অর্থের বিনিময়ে তিনি এই বইটি প্রকাশ করিয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এস কে সিনহা আপাতত তার অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে বিদেশে আরাম-আয়েসের জীবন যাপন করার চিন্তায় মশগুল রয়েছেন। তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে। দেশের মাটি থেকে আয় করা অবৈধ অর্থ তিনি প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় বিনিয়োগ করা নিয়ে কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ সিনহাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাদের মতে, তিনি সরকারকে বদনাম করে যে বই বের করেছেন তার রেফারেন্স এবং অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় সহজেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া যাবে। এছড়া তিনি সংখ্যালঘু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপারটি সহজ হবে।

জানা গেছে, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের একজন নেতা এস কে সিনহাকে দেশটির লাসভেগাসের একটি ক্যাসিনোতে এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি বিচের কাছাকাছি রেস্টুরেন্টে বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধ সম্পদ বিনিয়োগ নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকে। তবে যথাস্থানে পয়সা দিতে পারলে সহজেই বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে সুযোগ সুবিধা বিবেচনায় এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্র নাকি অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে পাচার করা অর্থ বিনিয়োগ করবেন তা নিয়ে বেশ ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত দুটো দেশের মধ্যে যেকোন একটি দেশে নিজেকে অত্যাচারিত দাবি করে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করবেন। জানা গেছে, একবার রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে গেলে অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বসবাসকারী পাগল কবি সিফাত উল্লার মতো তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে নিজের ঝাল মেটাবেন।