বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চান না বি. চৌধুরী-ড. কামাল, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে মূলত সরকার বিরোধী আন্দোলন করে শেষ বয়সে রাষ্ট্রের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল। তবে স্বপ্নে বিএনপি ভাগ বসানোতে দুজনই ক্ষেপে গেছেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করে বিদেশে চক্রান্তকারীদের অর্থায়নে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারায় বিএনপিকে সামিল করা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। বিএনপির বিগত দুর্নীতি, সীমাহীন লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার, জঙ্গিদের আশ্রয়দানের রাজনীতির অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে রাজি হচ্ছেন না বি. চৌধুরী এবং ড.কামাল।

তাদের ভাষ্য, বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে সাহায্য করলে এত দিনের পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যাবে। বিএনপি-জামায়াত চোর-দুর্নীতিবাজদের আড্ডাস্থল। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ধর্মের নামে দেশের জ্ঞানী-গুণী, মেধাবী মানুষদের হত্যা করে দেশকে মেধাশুন্য করবে। ফলে বাংলাদেশ আবারও পিছিয়ে যাবে এবং দেশটি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। শেষে বিদেশি প্রভু বাংলাদেশকে জঙ্গিমুক্ত করতে এসে দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাবে। এক কথায় বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করলে দেশ হবে জাহান্নাম। সুতরাং কোনভাবেই বিএনপি-জামায়াতকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসতে দিবে না জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। প্রয়োজন হলে তারা দুজন মিলে যৌথ সরকার গঠন করবে। তবুও বিএনপি-জামায়াতের মতো ঘাতক দলকে কোনো সুযোগ দিতে চান না বি. চৌধুরী ও ড. কামাল। তাই ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নাগরিক সমাবেশে বিএনপির পক্ষে সাফাই গাইতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বয়োজ্যেষ্ঠ দুই নেতা। এদিকে শেষ সময়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বেঁকে বসায় বিপাকে পড়েছে বিএনপি।

সূত্র বলছে, অনেক চেষ্টা-তদবির করে বিদেশি বন্ধুদের বুঝিয়ে কিছু টাকার ব্যবস্থা করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যবস্থা করেছেন বি. চৌধুরী ও ড. কামাল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনে ঈর্ষান্বিত হয়ে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে তাদের পায়ের তলে দাবিয়ে রেখে গোলাম রাষ্ট্রে বানাতে চায়। মূলত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র বানাতে পাঁয়তারা করছে কিছু রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের মিশন কমপ্লিট হলে বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল তাদের তাবেদার হবেন। একজন রাষ্ট্রপতি হবেন, অপরজন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাদের এই স্বপ্নে ভাগ বসাতে সময়মত উপস্থিত হয়েছে বিএনপি। পঁচে যাওয়া বিএনপিকে নতুন জীবন দিতে বি. চৌধুরী ও ড. কামালের বিকল্প দেখছেন না তারেক রহমান। এই দুই নেতা বিএনপিকে খাল থেকে টেনে তুলতে পারেন বলে তারেক রহমানের বিশ্বাস। তাই বি. চৌধুরী এবং ড. কামালকে বুঝিয়ে তাদের পক্ষে আন্দোলন করে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার জন্য মির্জা ফখরুলকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রয়োজনে এই নেতাদের পায়ের তলে পড়ে থাকতেও মির্জা ফখরুলকে আদেশ দিয়েছেন তারেক। তারেক রহমানের নির্দেশনা মাথায় নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বি. চৌধুরীর বাসায় হাজিরা দেন মির্জা ফখরুল। সেখানে উপস্থিত ড. কামালকে বিএনপির ত্রাতা হিসেবে উল্লেখ করে বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। হঠাৎ মির্জা ফখরুলের এমন চাটুকারিতায় সন্দেহ সৃষ্টি হয় বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল। বিএনপিকে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে সাহায্য না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা।

তারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই তাদের আসল চেহারা ফুটে উঠবে। যে বিএনপি আজ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যার তার পা ধরছে, সেই বিএনপিই ভবিষ্যতে রক্তচোষা হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপিকে সাহায্য করা মানে খাল কেটে কুমির নিয়ে আসা। বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে লাভ হবে শুধু তারেক রহমান ও তার কিছু চামচাদের। তারেকের মতো বেয়াদব ও দুর্নীতিবাজকে কোনো মতেই সমর্থন করতে রাজি হননি বি. চৌধুরী ও ড. কামাল। এমনকি ২২ সেপ্টেম্বর নাগরিক সমাবেশে বিএনপির হয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ না করতে প্রতিজ্ঞা করেছেন তারা। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের এমন রূঢ় আচরণে মনের দুঃখে ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল।