খালেদার আইনজীবী বানাতে ড. কামালের পা ধরে কেঁদে হাসির পাত্র হলেন মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক: যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় ২২ সেপ্টেম্বরের নাগরিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বি. চৌধুরীর বাসায় প্রস্তুতি সভায় বিএনপিকে বাঁচাতে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচেন পূর্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য ড. কামালের পা ধরে হাউমাউ করে কাঁদলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ড. কামালের একাউন্টে অর্থ দেওয়ার ওয়াদা করে পা ধরে বসে কাঁদতে থাকেন মির্জা ফখরুল। ড. কামাল খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ওয়াদা করলে পা ছাড়েন ফখরুল। মির্জা ফখরুলের এমন বিব্রতকর আচরণে হতভম্ব হয়ে পড়েন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা। এসময় বিষয়টিকে বাঘের ঘাস খাওয়ার সাথে তুলনা করে উপহাস করেন বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন ছোট ছোট দলের একাধিক নেতা।

সূত্র বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারকে নিজেদের আয়ত্বে আনতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করে রাজনৈতিক পাঁয়তারা করছেন ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর মতো একাধিক অবাঞ্ছিত ও জনবিচ্ছিন্ন নেতা। রাজনৈতিক জোট গঠন করে সরকারের সাথে আঁতাত করে সুবিধা আদায় করতেই এমন পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে। রাজনীতির নামে সম্পদ গড়তে রাজনৈতিক জোট গঠন করে ফায়দা লুফে নেওয়ার মাস্টার প্ল্যান করেছেন ড. কামাল ও বি. চৌধুরী। এদিকে বিএনপি নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে রাজনীতির মাঠে দিশেহারা। নিজেদের অজনপ্রিয়তা ও নেতাদের বেইমানির কারণে বিএনপি ছন্নছাড়া ও অভিযোগের দল হিসেবে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে। লন্ডনে বসে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও মা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারেক রহমান। তাই তারেক রহমান এবার যেকোন কৌশলে ড. কামালের মন জয় করে তাকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মির্জা ফখরুলকে নির্দেশ দেন। তারেকের নির্দেশনা মাথায় নিয়ে ২১শে সেপ্টেম্বর বি. চৌধুরীর বাসায় বৈঠকে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল। ফখরুলের চিন্তা ছিল এক ঢিলে দুই পাখি মারার। বৈঠকে বিএনপির সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের পূর্বে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বশ করা এবং ড.কামালকে সন্তুষ্ট করে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে অবগত করা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির একজন নেতার বরাতে জানা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রথম থেকেই বি. চৌধুরী ও ড. কামালের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে তা মোবাইলে তারেক রহমানকে মেসেজ দিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। ড. কামালের একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও ব্যর্থ হন মির্জা ফখরুল। একটা পর্যায়ে চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই আলোচনার মাঝখানেই ড. কামালের দুই পা জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেন মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুলের এমন বুদ্ধি-বিবেকহীন আচরণে বিব্রত হয়ে পড়েন ড. কামালসহ উপস্থিত একাধিক বিভিন্ন দলের নেতারা। ড. কামাল শত চেষ্টা করেও মির্জা ফখরুলকে নিবৃত করতে ব্যর্থ হয়ে তার ইচ্ছার কথা জানতে চান। এসময় পাঞ্জাবির হাতায় চোখ মুছে মির্জা ফখরুল তাকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হওয়ার অনুরোধ করেন এবং রাজি না হওয়া পর্যন্ত পা ধরে বসে থাকার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হয়ে তাকে মুক্ত করতে পারলে ড. কামালকে প্রচুর নগদ অর্থ দেওয়ারও প্রলোভন দেখান মির্জা ফখরুল। তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রলোভনে বিরক্ত ও বিব্রত হয়ে পড়েন ড. কামাল। এসময় তিনি রাগান্বিত স্বরে বলেন, তার মতো মূর্খের কারণে বিএনপি আজ মৃতপ্রায়। এসময় মির্জা ফখরুল তার প্রতি বিএনপির করা অপরাধের জন্য হাতজোড় করে ক্ষমা চান। বিশেষ করে তারেক রহমানের বেয়াদবীর সকল দায়ভার মির্জা ফখরুল নিজ কাঁধে নেন। ড. কামাল তাতেও রাজি না হলে মির্জা ফখরুল হাউমাউ করে উচ্চস্বরে কান্না করতে থাকলে পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। এসময় বি. চৌধুরী আসন ছেড়ে এসে মির্জা ফখরুলকে ধমক দেন।

তিনি বলেন, কী শুরু করলেন ফখরুল সাহেব? এটা কী মরা বাড়ি নাকি? কান্না থামান। অবশেষে বি. চৌধুরীর বিশেষ অনুরোধে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হওয়ার বিষয়ে চিন্তার সময় নিলে মির্জা ফখরুল তার পা ছাড়েন।

এদিকে মির্জা ফখরুলের এমন আচরণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন দলের একাধিক নেতারা হাস্যরসে ফেটে পড়েন। মানুষের দু:সময় যে তাকে কত কী করতে বাধ্য করে সেটি নিয়েও তারা মশকরা করেন। একজন তো বলেই ওঠেন যে, মির্জা ফখরুল ও বিএনপির অবস্থা বাঘের ঘাস খাওয়ার মতো। যে ড. কামালকে তারেক রহমান ও বিএনপি অপমান করেছিল, তারাই আজ তার পা ধরে কাঁদছে। হায় রে বিচিত্র রাজনীতি!