হঠাৎ সরব এস কে সিনহা: ব্যক্তিগত অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা?

গতকাল থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা আবার নতুন করে সংবাদের শিরোনামে পরিণত হয়েছেন। তবে কোন মঙ্গল বার্তা নিয়ে নয় বরং জাতীয় জীবনে চরম অমঙ্গল এবং উৎকণ্ঠার কারণ ঘটিয়ে তিনি আবারো আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনামে পরিণত হয়েছেন একটি বই প্রকাশের মাধ্যমে।

সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নিজের লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামের একটি বই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত বইয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেছেন বর্তমান সরকার এক প্রকার জোর করে তাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। অথচ তিনি বিদেশ যাওয়ার পূর্বে নিজে সাংবাদিকদের কাছে বিবৃতি দিয়ে গেছেন যে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি দুই মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন। তখন এস কে সিনহা স্বাক্ষরিত ছুটির দরখাস্তের একটি কপিও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিলো। পরবর্তীতে তিনি হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন।  অথচ এসব বেমালুম ভুলে গিয়ে তিনি এখন একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেছেন বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এয়ারপোর্টে। উল্লেখ্য এস কে সিনহা বিদেশ গমন কালে এয়ারপোর্টে তার দিকে তাক করা ছিল দেশি বিদেশী অসংখ্য সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা। এমতাবস্থায় কারো উপর শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগটি কতখানি অবাস্তব তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারিতে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এস কে সিনহা। তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হবার পর থেকেই নিজের পদবী এবং ক্ষমতা ব্যবহার করে নানা ধরণের দুর্নীতি ও অপকর্মে যুক্ত হয়ে পড়েন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১ টি দুর্নীতির অভিযোগও উঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই যার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারী দল। এস কে সিনহার পাশাপাশি ওই সময় বেপরোয়া হয়ে উঠে তার আত্মীয় স্বজনরাও। এস কে সিনহার একাধিক আত্নীয় স্বজন তার মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করিয়ে দেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথাও জানা গেছে।

২০১৭ সালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এয়ারপোর্টের পূর্বপাশে খিলক্ষেত এলাকায় আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছিলেন উত্তরার এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী।

ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে নিজের অপকর্ম ঢাকতেই কি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করে বই প্রকাশ করেছেন এস কে সিনহা?