ড. কামাল ও আ স ম রবের জাতীয় ঐক্যে নেই বি. চৌধুরী

 

জোটবদ্ধ হয়ে কোনো কার্যক্রমের আগেই ভাঙ্গনের সুর যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সভা সমাবেশে দেখা যাচ্ছে না যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধু জাতীয় ঐক্যের সঙ্গেই নয়, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গেও যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন বি. চৌধুরী।

ড. কামাল হোসেন ও আ স ম রব সহ জাতীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা আক্রমণাত্মকভাবে সরকার বিরোধী কর্মসূচি পালনের পক্ষে এবং বিএনপির সাথে গিয়ে আন্দোলন জোরদার করতে চায়। কিন্তু বি. চৌধুরী আক্রমণাত্মক কর্মসূচিতে রাজি নন। এ কারণে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের সাথে মত পার্থক্য দেখা দিয়েছে বি. চৌধুরীর।

গত শনিবার প্রেসক্লাবে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন বি. চৌধুরী। তার অনুপস্থিতেই সংবাদ সম্মেলন করেন ড. কামাল ও আ স ম রব সহ অন্যান্যরা। এরপর ঐক্যের একাধিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বি. চৌধুরী। সর্বশেষ মঙ্গলবার যশোর প্রেসক্লাবে সাংবাদ সম্মেলনেও অনুপস্থিত ছিলেন বি. চৌধুরী। এ নিয়েই প্রশ্ন উঠছিল তবে কি জোট ছাড়ছেন বি. চৌধুরী। আবার শোনা যাচ্ছে বি. চৌধুরীর নতুন জোট গঠনের কথা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীকে যেভাবে বঙ্গভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তাতে বিএনপির প্রতি তার রাগ-ক্ষোভ থাকা খুবই স্বাভাবিক। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপিকে যুক্ত করার জন্য যে বাড়াবাড়ি করছেন তা বি. চৌধুরীর ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই নিয়ে গতকালের বৈঠকেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। ড. কামাল ও রব বিএনপির প্রতি দুর্বলতা এবং জাতীয় ঐক্যে দলটিকে নিতে তাদের উদগ্রীব মনোভাব দেখেই বি. চৌধুরী যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কার্যক্রম থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে ফেলছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিকল্প ধারার এক নেতা জানায়, সরকার বিরোধী কর্মসূচি, বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ায় নেওয়া না নেওয়া নিয়ে ড. কামাল ও আ স ম রব সাথে দ্বন্দ দেখা দিয়েছে বি. চৌধুরীর। শনিবার প্রেসক্লাবে যে কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে জাতীয় ঐক্য থেকে সেখানেও অসন্তোষ রয়েছে বি. চৌধুরীর। তাই জাতীয় ঐক্যে ড. কামাল ও আ স ম রব থাকলে তিনি সে ঐক্যে থাকবেন না বলে জানান ।