খালেদার মুক্তি আন্দোলন বাদ দিয়ে মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বিএনপি নেতাদের

আগামী অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। তাই আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খালেদার মুক্তি আন্দোলন বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় নিজ নিজ পক্ষে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছেন তারা।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনের আগে বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করে তারপর তাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচন করার পক্ষে ছিলো। তবে, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করার কথা বিএনপি বললেও নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই খালেদার কথা ভুলে নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। বর্তমানে তারা খালেদার মুক্তির চেয়ে নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১১৫ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দেশব্যপী চালানো জরিপ এবং পঞ্চম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে আসনগুলোতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। লন্ডন ও গুলশান কার্যালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো নেতা নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, নির্বাচনের আগে খালেদার মুক্তি করা সম্ভব হবে না, তাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী দলের সমক পর্যায়ের নেতা। সে লক্ষ্যেই যেসব আসনে বড় ধরনের কোনো ঝামেলা নেই সেখানে একক প্রার্থীর একটি তালিকা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একাধিক জরিপ চালিয়েছেন। জরিপে এগিয়ে থাকা প্রার্থী, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের ফল এবং প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে সবুজ সংকেতও দেয়া হচ্ছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরই খালেদাকে মুক্ত করতে বার বার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও ব্যার্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে কারাবন্দি খালেদাকে মুক্তি করে তার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলে আসছিল নেতাকর্মীরা। কিন্তু এখন সেই নেতা-কর্মীদের আগামী নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যাচ্ছে।