খালেদার পছন্দ শর্মিলা, দলীয় নেতাকর্মীদের পছন্দ জোবায়দা

বিএনপির দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন জেলে। একাদশ নির্বাচনের আগে ছাড়া পাবেন কিনা তা নিয়ে দলের ভেতরে রয়েছে সংশয়। দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান গত ১০ বছর ধরে দেশের বাইরে লন্ডনে পলাতক। দুজনের বিরুদ্ধেই বেশ কটি দুর্নীতির মামলা চলমান। আগামী মাসেই ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেওয়া হবে। এই রায়ে তারেক রহমানের বড় ধরণের সাজা হওয়ার আশঙ্কা করছে বিএনপি। তারেকের বড় ধরণের সাজা হলে সে আর আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এ অবস্থায় দলটির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জিয়া পরিবারের কেউই থাকবে না। তাই তীব্র নেতৃত্ব সংকটের কারণে বিএনপি এখন অনেকটা দিশেহারা। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির হাল ধরতে রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধু জোবায়দা রহমান এবং শর্মিলা রহমান সিঁথি।

প্রকৃতপক্ষে কে বিএনপির হাল ধরবে, এই ব্যাপার নিয়ে অনেকদিন ধরেই দলের মধ্যে একধরণের অন্তঃকোন্দল চলে আসছে। খালেদার পছন্দ প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিকে। খালেদা চায় শর্মিলা বিএনপির নেতৃত্বে আসুক।

জোবায়দা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালে কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। তিনি বর্তমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা নিষ্পত্তি না হলে তিনি দেশে ফিরবেন না বলে জানা গেছে। কারণ দেশে ফিরলে তার গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা আছে। জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় খালেদার তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে দলীয় নেতাকর্মীদের পছন্দ তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবায়দাকে। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কারণে জোবায়দা রহমানকেই প্রথম পছন্দে রেখেছে তারা। তিনি রাজনীতিতে এলে বিএনপির ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে বলে মত জ্যেষ্ঠ নেতাদের।

শুধু জোবায়দাই নয় শর্মিলা রহমান সিঁথি রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালেও সময়ের প্রয়োজনে দলের নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শর্মিলা লন্ডন থেকে দেশে আসা, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকবার কারাগারে সাক্ষাৎ, খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলোচনাসহ তার নানা কর্মকাণ্ড ওই সম্ভাবনা জোরালো করেছে। শর্মিলার এমন কর্মকান্ডে খালেদা তার প্রতি সন্তুষ্ট।

শেষ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বে কে আসছে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। খালেদার পছন্দ জয়ী হবে না কি নেতাকর্মীদের পছন্দ জয়ী হবে তা দেখতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।