শিশুদের পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করত বিএনপি-জামায়াতের মাফিয়া চক্র

নিউজ ডেস্ক : ‘শিশুদের পঙ্গু করে নামানো হচ্ছে ভিক্ষায়’ শিরোনামে দেশের একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ছাপানো সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত কিছু মাফিয়া ও দেশিও সন্ত্রাসীদের সরাসরি মদদে অবুঝ শিশুদের অপহরণ করে কৃত্তিম উপায়ে অঙ্গহানী ঘটিয়ে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই সামাজিক ব্যাধি তীব্রতর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশকে গরীব ও ফকিরের দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশি সাহায্য হজম করার জন্য এই পাঁয়তারায় মত্ত হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আশীর্বাদপ্রাপ্ত মাফিয়া চক্রের কিছু সদস্যরা।

প্রশ্ন উঠে, এতো এতো বাচ্চা-শিশু ওই মাফিয়া গ্রুপগুলোর হাতে কোত্থেকে আসে? বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা দেখা গেছে, বিগত বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে অর্থাৎ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা দেশে হঠাৎ করে ৫ বছরের নিচের বয়সী শিশু হারিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সারা দেশে তৎকালীন সরকারের আশীর্বাদপ্রাপ্ত কিছু অসাধু চক্র এবং মাফিয়া সংগঠনগুলো অনৈতিক উপায়ে অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার জন্য ঘৃণিত এবং মানবতা বিরোধী এই প্রকল্প হাতে নেয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার চুরি-দুর্নীতি এবং অবৈধ উপায়ে ভবিষ্যৎ গড়তে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার স্পষ্ট চক্রান্ত দেখেও না দেখার ভান করে। তৎকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সফলতা অর্জন করলেও মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া সরকারের নীতি নির্ধারকরা অভিযান বন্ধ করে দেশকে ভিক্ষুকের দেশ বানিয়ে বেশি বেশি বিদেশি সাহায্য এনে লুটপাটের মিশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

রাজধানীসহ সারা দেশে ভিক্ষুকদের কোলে মাঝে মধ্যেই ঘুমন্ত অথবা শারীরিক বিকলাঙ্গ ছোট ছোট শিশু দেখে সাধারণ পথচারীরা দয়াপরবশত হয়ে ভিক্ষা দেন। কোলে অবুঝ এবং শারীরিকভাবে পঙ্গু শিশু নিয়ে ভিক্ষা করলে অনেক টাকা পাওয়া যায় বলেই অভিনব এই কায়দা অবলম্বন করেন। একটি শিশু সারাদিন চুপচাপ ঘুমিয়ে কাটায় কিভাবে? তাও আবার ব্যস্ত সড়কের পাশে হাজারো গাড়ির হর্ন এবং নানা রকম শব্দের মাঝে? রাস্তার পাশে ছোট শিশু নিয়ে যারা ভিক্ষা করছে তাদের অধিকাংশেরই কোলে থাকা শিশুটি ঘুমে বিভোর। এইভাবে দিনের পর দিন নেশাদ্রব্য খাওয়ানোর ফলে কিছুদিন পরেই ওই শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। তারপর ওই শিশুটির স্থান দখল করে নেয় অন্য কোনো শিশু। আসলে এদের অধিকাংশই চুরি করা শিশু অথবা টাকার অভাবে থাকা মাদকসেবী পরিবারের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশুদের ধরে নিয়ে গিয়ে পঙ্গু বা অচল করে দেয়। তারপর তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর টানা ছয় মাস আট-নয় বছরের এক শিশুকে জড়সড় করে আটকে রাখা হয়। সারাদিনে শুধু একবার সামান্য ভাত অথবা রুটি-পানি দেয়া হতো তাকে। এইভাবে দিনের পর দিন একটি পাতিলের ভিতর থাকতে থাকতে শিশুটি কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়। এছাড়া অনেক শিশুকেই ধরে এনে কব্জি, পায়ের রগ, পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়ে অথবা বুকে, ঘাড়ে, মাথায় আঘাত করে অচল বানিয়ে দেয়া হতো। তারপর তাকে দিয়ে চলতো ভিক্ষার ব্যবসা।