মির্জা ফখরুল: গেলেন মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে, ফিরলেন দেশকে পুড়িয়ে কয়লা বানানোর মসলা নিয়ে

নিউজ ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সরকার যদি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা না করে এবং নির্বাচনে বিএনপির নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার দাবি না মেনে নিলে আগামী অক্টোবর মাসে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করার তারেক রহমানের ভয়ংকর নির্দেশনা নিয়ে দেশে ফিরলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।

সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন হলে দেশকে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিএনপির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করাতে মির্জা ফখরুলকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। এজন্য তৃণমূল বিএনপিকে চাঙ্গা করে আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাবে নতুন করে উজ্জীবিত করতে প্রয়োজনে দলটির সিনিয়র নেতাদের সারা দেশ সফরেরও আদেশ দেন তারেক।

লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করার অনৈতিক সব দাবি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সাথে সফরের নামে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক দেশ বিরোধী শক্তির এজেন্ট জামায়াত-শিবির এবং সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী শক্তিদের সাথে দেখা করেন মির্জা ফখরুল। তাদের সাথে আঁতাত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য মূলত রসদ সংগ্রহ করতেই তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগের উপর প্রতিশোধ নিতে বিদেশে পালিয়ে থাকা শক্তিগুলো নির্বাচনের পূর্বে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে অর্থ-অস্ত্র সরবরাহের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সফর শেষ করেই তারেক রহমানের সাথে নির্বাচনকেন্দ্রীক কৌশল নির্ধারণ করতেই যুক্তরাজ্যের পথে রওয়ানা দেন মির্জা ফখরুল। ১৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে তারেক রহমানের সমালোচনার মুখে পড়েন মির্জা ফখরুল।

সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার জন্য মির্জা ফখরুলকে মেরুদণ্ডহীন বুড়ো বলদ বলে তিরষ্কার করেন। তারেক রহমানের এমন কড়া সমালোচনায় অনেকটাই মুষড়ে যান মির্জা ফখরুল। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমানের লন্ডনের বাড়িতে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন এই দুজন নেতা। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ছিলেন লন্ডন বিএনপি নেতা মালেক এবং একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা। উপস্থিত সেই বিএনপির নেতার বরাতে জানা যায়, নির্বাচনের পূর্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচনকালীন সরকার বিএনপির পছন্দমত সরকার গঠন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে দেশকে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করার জন্য মির্জা ফখরুলকে আদেশ দেন তারেক রহমান। তারেকের মতে, সরকার বিরোধী এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এতটাই তীব্রতর এবং বিভৎস হবে যে তা দেখে সরকারের মেরুদণ্ড কেঁপে উঠবে। সরকার নিজেদের বাঁচাতে বিএনপির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে। সরকারকে দুনিয়াতে জাহান্নামের দৃশ্য দেখাবে বাধ্য করবে বিএনপি। প্রয়োজনে লাশের উপর দিয়ে মিছিল করে সরকারের গদিতে আঘাত করতে হবে। এই ভয়ংকর এবং বিভৎস রাজনীতির চর্চায় জামায়াত-শিবির বিএনপিকে সহায়তা করবে বলেও মির্জা ফখরুলকে আশ্বস্ত করেছেন তারেক। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে হলে রক্ত আর লাশের উপর দিয়েই বিএনপিকে পার হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক।

এদিকে তারেক রহমানের কানপড়া নিয়ে দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল। দলীয় অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে এখন বিএনপি কতটুকু ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে সেটি নিয়ে চিন্তিত দেশবাসী।