ডিগবাজির রাজনীতিতে বিভক্ত নেতা-কর্মীরা, এরশাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্ক : নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের পুরাতন চরিত্রের নতুন রিহার্সেল দিলেন সাবেক স্বৈরশাসক ও জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।  নিজের অনৈতিক চাহিদা ও শর্ত বোঝাতে আবারো ডিগবাজি দেওয়ার আভাস দিলেন সাবেক এই স্বৈরশাসক।  এরশাদ যে ধরাছোঁয়ার বাইরের জিনিস এবং রাজনীতির জন্য অশনী সংকেত সেটি আবার প্রমাণিত হলো।  ১৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ শহরের দলীয় একটি অনুষ্ঠানে নিজের বিপরীত ও উদ্দেশ্যহীন রাজনীতির আভাস দিয়েছেন।  এরশাদের এমন উল্টাপাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যে বিস্মিত ও দ্বিধাহীন হয়ে পড়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা।  দলের নেতা যখন সকাল-বিকাল বক্তব্য পাল্টান সেখানে রাজনীতি করে সুবিধা আদায় করাটা কতটা কঠিন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন দলটির কর্মীরা।  এরশাদ তার কর্মীদের কাছে রাজনৈতিক ভাঁড়ে পরিণত হয়েছেন তার নীতি-আদর্শহীন কর্মকাণ্ডের জন্য।  যে এরশাদ কয়েক বছর আগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন সেই এরশাদই দিনের পরিবর্তনে চরিত্র পাল্টিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন।  নির্বাচনের পূর্বে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে এরশাদের এমন অহেতুক কৌতুকপূর্ণ মন্তব্যে জাতীয় পার্টি আরো বিভক্ত হতে পারে বলে আশংকা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র বলছে, সুনামগঞ্জের সভায় এরশাদ দাবি করেছেন যে প্রতিদিন মানুষ মারা যায়, খুন হয়, গুম হয়, তার হিসাব নেই।  সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।  ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না।  মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আর ক্ষমতার পালাবদল চায় না।  মানুষ শান্তি চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।  এরশাদের দাবি অনুযায়ী বিএনপি-আওয়ামী লীগ শুধু দেশের ক্ষতি করেছে।  এই দুটি দলকে বিদায় করে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় বসাতে পারলে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে বলে এরশাদের উপলব্ধি।  বাংলাদেশের যত অর্জন তা গত দশ বছরে হয়েছে।  সেটি দেশবাসীও প্রত্যক্ষ করেছে।  এরশাদ নিজের চেয়ার বাঁচাতে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পকেট ভারি করতেই প্রতিবারই এমন করে যা দেশবাসী ভালমতই জানেন।  এরশাদ ভালমতই জানেন তিনি এককভাবে ক্ষমতায় আসতে কোনদিনই পারবেন না।  নির্বাচনের আগে নিজের দাম বাড়াতে গিয়ে একটু বেশিই বলে ফেলেন এরশাদ।  বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদের মত চালাক ও ধূর্ত রাজনীতিক দ্বিতীয় কেউ নেই।  রাজনীতি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন তিনি।

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, এরশাদের মত ক্যামেলিয়ন পৃথিবীর রাজনীতিতে বিরল।  এরশাদ ভালমতই জানেন জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু।  তাই তো নির্বাচনের পূর্বে নিজের দাম বাড়াতে এবং পকেট ভারি করতে এরশাদ ভোল পাল্টাতে শুরু করেছেন।  কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য তার প্রশংসা করেন।  অথচ স্বার্থ উদ্ধারের বিষয়টি মাথায় আসতেই এরশাদ রং পাল্টাতে শুরু করেছেন।  এরশাদ ভালো মতই জানেন তিনি কেবল অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানোর সিঁড়ি মাত্র।  তিনি দরজার বাহিরে রাখা পাপোছ মাত্র।  সকলেই তাকে ব্যবহার করে।  সুতরাং সময় থাকতে সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করতে চান এরশাদ।  সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে, বিরোধী জনমত তৈরি করে সরকারের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার মত অনৈতিক দাবি আদায় করতেই এরশাদ এসব করছেন।  নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এরশাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা।  এরশাদ পঁচা শামুকের মত।  সুযোগ মত পা কেটে দিবে।