আসন্ন জাতীয় নির্বাচন: জোট ও ভোটের হালচাল

আজিজ পাশা: বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং নাগরিক ঐক্য এই তিন দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট যুক্তফ্রন্ট। নতুন এ জোট সর্ম্পকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ জোটের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা সমাজে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু তাদের দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল। তারা ভোটের রাজনীতিতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারলেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে ভোটের রাজনীতিতে জনমানুষের থেকে দূরে থেকে শুধুমাত্র কথার জোরে ভোট নিজের পক্ষে আনাকে এক রকম অসম্ভবই দেখছেন রাজনীতির বোদ্ধারা।

নতুন জোট গঠনের আগেই অনেকটা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের একটি ধাপ হচ্ছে এই বৃহত্তর ঐক্য। তবে ড. কামাল হোসেন ও ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই দুই নেতা এক হয়ে গেলে জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজ সহজ হয়ে যাবে’। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে- এমন সম্ভাবনা আপাতত নেই।

নতুন এ জোট বিএনপির সাথে জাতীয় ঐক্য গঠনের আশা করলেও তাদেরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। বিশ্বাস ও আস্থাহীনতায়ও ভুগছে বিএনপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারকে বিদায় করতে জাতীয় ঐক্য গঠনের ডাক দেওয়া হলেও গঠন প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে জাতীয় ঐক্য গঠনে এগিয়ে আসা বিভিন্ন দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নির্বাচনী ঐক্যের ওপর জোর দিচ্ছেন ও মতামত তুলে ধরছেন, যা মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে অন্তরায় হতে পারে। আর তাদের সাথে ঐক্যের ফলে বিএনপি লাভ লোকসানের হিসাব কষছে। দেশের ১৭টি জেলায় জামায়াতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট আছে। আর গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের শক্তি সেভাবে নেই।

বৃহৎ জোট গঠনের ক্ষেত্রে বড় কাঁটা জামায়াত। তবে নাছোড়বান্দা বিএনপি জামায়াত না ছেড়েই জোটের পক্ষে, ফলে দ্বন্দ্ব কমার বদলে আরো বাড়ছে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা দুইদিন বৈঠক করে সংগঠন গোছানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করলেও জামায়াত নিয়ে তেমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

যুক্তফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়া এবং তাদের পরিকল্পনাকে নজরে রাখছে আওয়ামী লীগও। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচন এলে সব সময় দেখা যায়, জোট গঠনের তৎপরতা শুরু হয়। যারা এই তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তারা জনগণ থেকে বিচ্যুত’।

রাজনীতি ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে হলে তৃণমূলের সাথে সর্ম্পক থাকতে হবে। নতুন গঠিত হওয়া জোটের সাথে সম্পৃক্ত দলগুলোর তৃণমূলে কোন ভিত্তি নেই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোন অফিস নেই। এমন কী এ জোটের ৩শ’ আসনে প্রার্থী দেয়ার যোগ্যতাও নেই। এমতাবস্থায় সামনের দিনগুলোতে কোন পথে যাবে এই জোট- তা দেখতে অধীর অপেক্ষায় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।