লন্ডনে তারেকের কাছে রিজভীর বিরুদ্ধে ফখরুলের নালিশ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নিউইয়র্ক সফর করে এসেছে সম্প্রতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে তারা সেখানে গিয়েছেন। এরপর থেকে দেশের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে বিষয়টি।

তবে, সংস্থার মহাসচিব দপ্তরের স্ট্রাটেজিক কমিউনিকেশন অফিসার জোয়স লুইস ডায়াজ নিশ্চিত করেছেন, গুতেরেস ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানাননি। বরং মির্জা ফখরুলের অনুরোধেই তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংস্থার রাজনীতি বিষয়ক সহকারি মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকা। পরবর্তীতে আমেরিকা থেকে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত শেষে দেশে ফিরেছেন তারা।

লন্ডনে তারেকের সাথে ফখরুলের বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে বিএনপি কিছু না জানালেও ফখরুলের সাথে লন্ডন সফররত দায়িত্বশীল একটি সূত্রমতে- ফখরুলের সাথে তারেকের বৈঠকের বেশির ভাগ অংশজুড়েই ছিল রিজভীর বিরুদ্ধে ফখরুলের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে- খালেদার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দলের প্রতীকী অনশনকে কেন্দ্র করে ফখরুলসহ দলের একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে রিজভীর দ্বন্দ্ব এক প্রকার প্রকাশ্যে চলে আসে। উল্লেখ্য, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনশন পালন করে দলটির অধিকাংশ নেতা কর্মী। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে রিজভীর নেতৃত্বে আরেকটি অংশ নয়া পল্টনে এই কর্মসূচি পালন করেন।

তারেকের কাছে ফখরুল রিজভীর বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে গিয়ে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই রিজভী সাহেব কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করেছেন। এছাড়া তিনি খেয়াল খুশিমত আমাদের না জানিয়েই বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচী ঘোষণা করে ফেলেন। ফলে দলের নেতাকর্মীরা এক ধরণের বিভ্রান্তিতে পরে যান’।

এ সময় তারেক ক্ষোভের সহিত ফখরুলকে বলেন, ‘আপনারা নিজের দলের নেতার সাথে ঐক্য ধরে রাখতে পারেন না, আবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে বেড়ান। আপনাদের দ্বন্দ্বের কারণেই আমার মা এখনো জেলে আছে’। এ সময় ফখরুল কোনো জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে বসে ছিলেন।

দলের একাধিক সিনিয়র নেতার বরাত দিয়ে জানা যায়, ফখরুলকে সরিয়ে দলের মহাসচিব হওয়ার পাঁয়তারা করছেন রিজভী। এই আশংকা থেকেই রিজভীর বিরুদ্ধে আগাম নালিশ জানিয়ে এসেছেন ফখরুল।

নিৰ্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিভক্তি ততই বেড়ে চলেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির নিশ্চিত ভরাডুবি ঘটবে বলে মনে করে দেশের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।