তারেকের অফার লুফে নিয়ে অসুস্থতার ভান করে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে আসলেন বি. চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার নামে সরকারের তাবেদারি করায় তারেক রহমানের হুমকিতে অসুস্থ হওয়ার ভান করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার তৈরির মূল চালিকাশক্তিখ্যাত বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী। ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার অন্তিম মুহূর্তে তারেক রহমানের অর্থের প্রলোভন এবং হত্যার হুমকির মুখে সরে দাঁড়ালেন বি. চৌধুরী। এদিকে বি. চৌধুরীর শেষ সময়ে পিছুটান দেওয়ায় আকাশ ভেঙে পড়েছে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের।

লন্ডন বিএনপি নেতা আবদুল মালেকের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবরে জানা যায়, বিএনপি বিগত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বর্জন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি অথবা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামের কোনো রাজনৈতিক জোটকে বৃহত্তর রাজনৈতিক দল সাজিয়ে নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা করছে সরকার বলেই তারেকের ধারণা। কারণ বর্তমান বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অবস্থান তৃতীয় সারির রাজনৈতিক দলের মতো হয়েছে। নেতা-কর্মীহীন এই দুটি দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতীত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণ এই দুই দলকে বিশ্বাস করে না। তাই দল দুটো নির্বাচন নিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বিবেচনায় তাই নির্বাচন বানচাল করে তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পাঁয়তারা করছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে টেলিফোন করে বি. চৌধুরী ও ড. কামালের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে সরকারের নতুন সাজানো খেলা আখ্যায়িত করে এটি থেকে দূরে থাকার জন্য বিএনপির সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরীকে সরে দাঁড়াতে বলেন তারেক। কিন্তু তারেক রহমানের এই অন্যায় আদেশকে অমান্য করেই ড. কামালের হাত ধরে পাঁতানো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বি. চৌধুরী। গণতন্ত্র রক্ষা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং সংসদকে কার্যকর রাখার জন্য জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের নামে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন বি. চৌধুরী। সরকারের টাকা খেয়ে গণতন্ত্র রক্ষার নামে পকেট ভর্তি করার নোংরা পাঁয়তারা বন্ধ করে লাইনে আসার জন্য বি. চৌধুরীকে দ্বিগুণ নগদ অর্থ প্রদান, বিএনপিতে ফিরে আসা এবং বিদেশ সফরের যাবতীয় খরচ বহন করারও অফার দেন তারেক। কিন্তু তারেক রহমানের এমন আকাশ-কুসুম অফার অবজ্ঞা করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন বি. চৌধুরী। একপর্যায়ে রেগে গিয়ে তারেক বি. চৌধুরীকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে মারা এমনকি অপঘাতে মৃত্যুর হুমিক দেন। শেষ বয়সে প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যুর বিষয়টি মাথায় রেখে মুহূর্তে ভীত হয়ে পড়েন বি. চৌধুরী। তারেকের হুমকিতে হতচকিত হয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের অফারে রাজি হয়ে অসুস্থ হওয়ার ভান করে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ঘোষণা দেন বি. চৌধুরী। সূত্র বলছে, তারেক রহমানের পরামর্শেই অনুষ্ঠানে যোগদানের মাঝপথে এসে অসুস্থতার ভান করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন বি. চৌধুরী।

এদিকে শেষ সময়ে বি. চৌধুরীর পিছুটান দেওয়ায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মাথায় বাজ পড়েছে। বি. চৌধুরী অন্তিম মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোও ড. কামালরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিবার বি. চৌধুরী নির্বাচন এবং জাতীয় প্রয়োজনে পিছু হটে যান বলেও অভিযোগ করেছেন জাতীয় ঐক্যের নেতারা। বি. চৌধুরীর আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনীতি করার ক্ষমতা না থাকলে খামখা জাতির সাথে প্রতারণা করার কোন অর্থ হয় না বলেও মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।